টিভি চ্যানেলের প্রাইম টাইম ডিবেট আর বুম হাতে মাঠ-ময়দান কাঁপানো ‘মিন মিন না করা’ পরিচিত মুখ ময়ূখরঞ্জন ঘোষ কি তবে এবার সাংবাদিকতা ছেড়ে সোজা ভোটের ময়দানে নামতে চলেছেন? রিপাবলিক বাংলা থেকে তাঁর হঠাৎ ইস্তফা দেওয়ার খবর সামনে আসতেই এই মুহূর্তে বঙ্গ রাজনীতি ও সংবাদমাধ্যমে তীব্র শোরগোল তৈরি হয়েছে। খবর সূত্রে জানা যাচ্ছে— আসন্ন উপনির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির টিকিটে ‘স্টার প্রার্থী’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারেন এই চর্চিত সাংবাদিক। মঙ্গলবার নিউজরুমে শেষবারের মতো দায়িত্ব পালনের পর সমস্ত অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ও ইমেল সার্ভিস থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন তিনি।
উপনির্বাচনের মেগা কাউন্টডাউন শুরু হতেই প্রশ্ন উঠছে, ঠিক কোন কেন্দ্র থেকে বিজেপির বাজি হতে পারেন ময়ূখরঞ্জন? নন্দীগ্রাম, রেজিনগর নাকি বসিরহাট লোকসভা? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নন্দীগ্রাম কেন্দ্রটি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিজস্ব ভূমি হওয়ায় সেখানে স্থানীয় আবেগ ও ভূমিপুত্রকেই প্রাধান্য দেবে দল। অন্যদিকে, রেজিনগরে প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের সাথে সম্পর্ক ভালো হলেও তা বিজেপির জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ আসন নয়। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে উদ্বাস্তু পরিবারের সন্তান ময়ূখরঞ্জনের জন্য বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রটিকেই সবচেয়ে সুবিধাজনক ও পছন্দের আসন হিসেবে মনে করছে বঙ্গ-বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।
অতীতে রিপাবলিক বাংলারই সহকর্মী সন্তু পান তারকেশ্বর থেকে বিজেপির টিকিটে লড়ে বিধায়ক হওয়ার পর থেকেই রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সুপ্ত বাসনা তীব্র হয় ময়ূখের। একসময়ের সক্রিয় এসএফআই কর্মী ময়ূখরঞ্জনের রক্তে রাজনীতি আগে থেকেই ছিল, ফলে বিজেপির প্রস্তাব আসামাত্রই তিনি তা সানন্দে গ্রহণ করেছেন বলে বিশেষ সূত্রে খবর। তবে দল বা ময়ূখরঞ্জনের তরফ থেকে এখনও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তো সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা ছেড়ে জনতার দরবারে ময়ূখরঞ্জনের এই সম্ভাব্য অভিষেক রাজ্য রাজনীতিতে যে এক নতুন চমক তৈরি করল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না!