Those without a roof over their heads will now be housed in Abhishek's palace.

যাঁদের মাথায় ছাদ নেই এবার তাঁদের রাখা হবে অভিষেকের প্রাসাদে? বড় ইঙ্গিত শুভেন্দু অধিকারীর

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ফের তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত। দুর্নীতি, অবৈধ সম্পত্তি এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নাম না করেই আমতলার তৃণমূল পার্টি অফিস এবং হরিশ মুখোপাধ্যায় রোডের তথাকথিত ‘প্রাসাদোপম’ বাড়িগুলিকে নিশানা করে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে সেগুলিতে রাস্তার ধারে থাকা গৃহহীন মানুষদের রাখা হবে। এই মন্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক বিতর্ক।

মঙ্গলবার বিধানসভায় বাজেট ও রাজস্ব আদায় নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, বর্তমান সরকার রাজস্ব সংগ্রহে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। তিনি বলেন, আগে বীরভূমের পাথর শিল্প থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোষাগারে খুব কম টাকা জমা পড়ত। তাঁর অভিযোগ, বিপুল অঙ্কের অর্থ অন্যত্র চলে যেত। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, এক বছরে যেখানে মাত্র ৬০ কোটি টাকার রাজস্ব পাওয়া গিয়েছিল, সেখানে এখন এক মাসেই ৮৩ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। আগামী দিনে তা আরও বাড়বে বলেও তিনি দাবি করেন।

এরপরই আরও কড়া অবস্থান নেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, স্বরাষ্ট্র দফতর একটি নতুন বিল আনতে চলেছে, যার মাধ্যমে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আইনি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে। বিধানসভার অধিবেশনের শেষ দিকে সেই বিল পেশ করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। তবে সবচেয়ে বেশি চর্চা শুরু হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর একটি মন্তব্যকে ঘিরে। নাম না করেই তিনি আমতলার তৃণমূলের পার্টি অফিস এবং কলকাতার হরিশ মুখোপাধ্যায় রোডের কয়েকটি বাড়ির প্রসঙ্গ তোলেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওই আমতলা, হরিশ চ্যাটার্জি, হরিশ মুখার্জি রোডের প্রাসাদগুলোতে কলকাতার রাস্তায়, ফ্লাইওভারের নিচে রাত কাটানো মানুষদের রাখাব।” রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও তাঁদের পরিবারের সম্পত্তির দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। যদিও তিনি কারও নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। এদিকে, একই অধিবেশনে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের পক্ষে সওয়াল করেন। কুণাল ঘোষ বলেন, যাঁরা তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে নিজেদের বাঁচানোর চেষ্টা করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এর জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কোনও ব্যক্তি বা নেতার বিরুদ্ধে যদি দুর্নীতি, চুরি, ত্রাণ সামগ্রী লুকিয়ে রাখা কিংবা অবৈধ সম্পত্তির তথ্য থাকে, তাহলে তা লিখিতভাবে জমা দিতে হবে। সরকার যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *