তারাতলায় একটি নির্মীয়মাণ গোডাউনের ছাদ ভেঙে ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা। একাধিক মানুষের আটকে থাকার আশঙ্কা। বুধবার বেলা ১টা নাগাদ নির্মীয়মাণ গুদামটি ভেঙে পড়ে বলে খবর। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে খবর। অধিকাংশই শ্রমিক বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। আটজনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে পিজি হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে। এ দিন সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত চার জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।ব্রেসব্রিজের কাছে একটি গোডাউন তৈরির কাজ করা হচ্ছিল। হঠাৎই বেশ কিছু লোহার বিম ভেঙে পড়ে। সেই বিমের তলায় বেশ কয়েকজন শ্রমিক আটকে পড়েছেন বলে খবর। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল, পুলিশ। আর্থ মুভার, গ্যাসকাটার নিয়ে এসে সেই লোহার বিম সরানোর কাজ শুরু করা হয়েছে। চাপা পড়ে থাকা অবস্থায় অনেকেই বাঁচানোর জন্য চিৎকার করছেন।
জানা গিয়েছে, দু’টি বড় ক্রেন, বুলেট চেন শ, গ্যাসকাটার, ৫ থেকে ৬টি আর্থ মুভার কাজে লাগানো হয়েছে উদ্ধারকাজে। বুলেট চেন শ ও গ্যাসকাটার দিয়ে লোহার বিমগুলি কেটে সরানোর কাজ হচ্ছে। বড় আকারের কাঠামোগুলি ক্রেনের সাহায্যে সরানো হচ্ছে। এক এক করে ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে আটকে পড়া শ্রমিকদের বের করে আনা হচ্ছে। NDRF ও সেনা কর্মীরা হাতে হাত মিলিয়ে উদ্ধার করছেন
ভিতর থেকে ভেসে আসছে বাঁচার আর্তনাদ। দুর্ঘটনাস্থলে ধরা ভয়ঙ্কর এক-একটা ছবি। কোথাও কাটা বিমের ভিতর থেকে হাত বার করে বাঁচার চেষ্টা চালাচ্ছেন কেউ, কোথাও দুটো বিমের মাঝে ঝুলে কাটা পা, কোথাও থেঁতলে গিয়েছে মাথা।৭৯ নম্বর ওয়ার্ডের ব্রেস ব্রিজের ডিপোর কাছে গোডাউনটি তৈরি হচ্ছিল। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন রাকেশ সিং। তৃণমূল কাউন্সিলর এলাকায় পৌঁছলে তাঁকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বার করা হয়।
তাঁর আমলেই এই নির্মাণ শুরু হয় বলে অভিযোগ। রাকেশ সিং বলেন, “আমি তো নিজে হাতে ৬ জনের দেহ বার করেছি। ওর কী ব্যবসা জানি না, ওর নাম প্রথম শুনলাম। যে মানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে, তা দেখলেই বুঝতে পারবেন। আসলে তৃণমূলের পাপটা আমাদের ভুগতে হচ্ছে। আমরা ৪ ঘণ্টা আগে থেকেই কাজ শুরু করে দিয়েছি। তখন পুলিশও পৌঁছয়নি। যাঁর আওয়াজ শুনছি, তাঁকে টেনে বার করছি। ঢালাই হাত দিয়ে টানলেই বেরিয়ে যাচ্ছে।
বুধবার দুপুরের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর পেয়েই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং উদ্ধারকাজের তদারকি করতে নবান্ন থেকে রওনা দিয়েছিলেন রাজ্যের দুই নতুন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, ইন্দ্রনীল খাঁ। অন্যদিকে, এই ঘটনার খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র তথা কলকাতার বন্দর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম। কিন্তু ঘটনাস্থলের মাত্র কয়েক মিনিট দূরত্বে পৌঁছলেও, শেষ পর্যন্ত সেখানে গিয়ে পা রাখতে পারলেন না কলকাতার প্রাক্তন মহানাগরিক! মাঝরাস্তায় পুলিশি বাধার মুখে পড়ে কার্যত বাধ্য হয়েই তাঁকে ফিরে আসতে হয়।
উদ্ধারকাজ চলাকালীনই তারাতলার দুর্ঘটনাস্থলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঘড়ির কাঁটায় পৌনে পাঁচটা নাগাদ তারাতলা যান তিনি। পৌঁছে প্রথমেই সেখানে উপস্থিত মন্ত্রী ও পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর যারা উদ্ধারকাজ করছেন তাঁদের থেকে পরিস্থিতির কথা জানতে চান। নির্মাণকাজের দায়িত্বে কারা ছিলেন, কীভাবে কী ঘটেছে, এই সব সংক্রান্ত তথ্যও নেন তিনি।