ডোমকলের ধুলাউড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতে ফের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গেল। বিধানসভা নির্বাচনে ডোমকল কেন্দ্র দখলের পর এবার পঞ্চায়েত স্তরেও বড় সাফল্য পেল সিপিএম। বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচনকে ঘিরে ধুলাউড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রধান নির্বাচিত হলেন সিপিএম নেত্রী রুনা লায়লা বিবি। এর ফলে দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে পঞ্চায়েতের নেতৃত্বে এল বামেরা। এই জয়ের পর এলাকা জুড়ে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন সিপিএম কর্মী-সমর্থকরা।
ধুলাউড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি গত কয়েক মাস ধরেই অস্থির ছিল। একসময় বাম-কংগ্রেস জোটের সমর্থনে প্রধান নির্বাচিত হয়েছিলেন পিঞ্জুরা বিবি। পরে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক একাধিক অভিযোগ তুলে চলতি বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়। অনাস্থা পর্বের পর রানিনগরের বিধায়ক জুলফিকার আলির উপস্থিতিতে পিঞ্জুরা বিবি-সহ ১৬ জন সদস্য কংগ্রেসে যোগ দেন। সেই ঘটনাই ধুলাউড়ি পঞ্চায়েতের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন এনে দেয়।
তৃণমূলের প্রভাব কার্যত শেষ হয়ে যাওয়ার পর পঞ্চায়েতের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শুরু হয় সিপিএম ও কংগ্রেসের লড়াই। শেষ পর্যন্ত প্রধান নির্বাচনেই এগিয়ে যায় সিপিএম। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কংগ্রেসের দুই সদস্যও ভোটাভুটিতে সিপিএম প্রার্থীর পক্ষেই সমর্থন জানান। ফলে রুনা লায়লা বিবির জয় আরও নিশ্চিত হয়ে ওঠে।
প্রধান নির্বাচন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ধুলাউড়ি পঞ্চায়েত চত্বরে ছিল কড়া নিরাপত্তা। সম্ভাব্য অশান্তি এড়াতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। তবে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়। পঞ্চায়েত ভবনে উপস্থিত ছিলেন ১৫ জন সদস্য। বিরোধী শিবিরের ১৫ জন সদস্য অনুপস্থিত থাকায় ভোটাভুটি কার্যত একতরফা হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ১৫-০ ভোটে প্রধান নির্বাচিত হন রুনা লায়লা বিবি।
নতুন প্রধান নির্বাচনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ধুলাউড়ি ও আশপাশের এলাকায় উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন সিপিএমের কর্মী-সমর্থকরা। দলীয় পতাকা হাতে মিছিল, আবির খেলা এবং স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, এই ফল মানুষের আস্থার প্রতিফলন এবং দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক পরিশ্রমের স্বীকৃতি।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে ডোমকল আসনে সিপিএম প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান রানার জয়ের পর থেকেই এলাকায় বাম সংগঠন নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করতে শুরু করে। সেই ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন দেখা গেল ধুলাউড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নির্বাচনে। পঞ্চায়েত স্তরে এই সাফল্য ভবিষ্যতের স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলেও মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
ডোমকলের এই ফল শুধু একটি পঞ্চায়েতের ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং জেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তিত চিত্রও সামনে আনল। তৃণমূলের হাতছাড়া হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ পঞ্চায়েত শেষ পর্যন্ত সিপিএমের দখলে যাওয়ায় মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। আগামী দিনে এই সাফল্যকে ভিত্তি করে সংগঠন আরও বিস্তারের লক্ষ্যেই এগোতে চাইছে বামেরা, অন্যদিকে হারানো জমি ফিরে পেতে নতুন কৌশল নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে বিরোধী শিবির।