Health Minister makes a surprise visit to Barasat Medical; issues a show-cause notice to the ward master after inspecting the situation.

বারাসত মেডিক্যাল আচমকা হাজির স্বাস্থ্যমন্ত্রী পরিস্থিতি দেখেই শোকজ করলেন ওয়ার্ড মাস্টারকে

রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলির দৈনদশা। মেডিক্যাল কলেজগুলির অবস্থাও তথৈবচ! কোথাও বেডের অভাব, মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ-স্যালাইনের ছড়াছড়ি, কোনও হাসপাতালে কুকুর-বিড়ালের অভাব বিচরণ, কোথাও আবার হাসপাতালের রোগী পরিষেবার হাল বেহাল। এসব এখন অতীত। বিজেপি সরকারের আমলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হাল ফেরাতে উদ্যোগী স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়

সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা খতিয়ে দেখতে আচমকাই সারপ্রাইজ ভিজিট গিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি বেরিয়ে আসছেন, আর সেই সময় দেখা গেল হাসপাতালের মধ্যে অবাধে হেঁটে বেড়াচ্ছে বিড়াল। তার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কড়া পদক্ষেপ করতে বাধ্য হল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কর্তব্যে চরম গাফিলতির অভিযোগে বারাসাত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ১২ জন কর্মীকে শোকজ করা হল ।হাসপাতাল সূত্রে খবর, নিজেদের দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন না করায় মন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হয়েছে।ঠিক কী ঘটেছিল?

বারাসাত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে হঠাৎ পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বিভাগ ঘুরে দেখার সময় বেশ কিছু অব্যবস্থা তাঁর নজরে আসে। এর পরেই ক্ষুব্ধ মন্ত্রী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেন। মন্ত্রীর সেই কড়া নির্দেশের পর তড়িঘড়ি তদন্তে নামে হাসপাতাল প্রশাসন।
তদন্তে গাফিলতির প্রমাণ মিলতেই মন্ত্রীর নির্দেশ মেনে মোট ১২ জনকে শোকজ করল বারাসাত মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চারজন ওয়ার্ড মাস্টার এবং চারজন নন-মেডিক্যাল সুপার। এ ছাড়াও প্রসূতি বিভাগের চরম অব্যবস্থার দায়ে ওই বিভাগের দু’জন সিস্টার ইনচার্জকে শোকজ করা হয়েছে। তালিকায় নাম রয়েছে হাসপাতালের ইনফেকশন ইনচার্জ সিস্টার এবং ফেসিলিটি কোয়ালিটি ম্যানেজারেরও।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ”কাল স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আমাদের এখানে হাসপাতালে আচমকা পরিদর্শনে আসেন। উনি আমাদের কিছু নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন। সেই নির্দেশগুলো আমরা পালন করার চেষ্টা করছি। আমরা সেই অনুযায়ী ১২ জনকে শোকজ করছি। আমাদের অনেক কিছু নেই, সেগুলো আমরা জানিয়েছি। উনি আমাদের একটা ডিটেইল প্রজেক্ট রিপোর্ট দিতে বলেছেন। সেটাও আমরা আজকের মধ্যেই ওঁর কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি।”

 

রোগী ও রোগী পরিজনরা চিকিৎসা পরিষেবা নিতে এসে যাতে কোনওরকম সমস্যার সম্মুখীন না হন সে বিষয়েও নির্দেশ দেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই এদিন থেকে তৎপরতা চোখে পড়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে। নিরাপত্তা থেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে অবস্থার দ্রুত বদল ঘটবে বলেই আশাবাদী কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের এই সিদ্ধান্তে খুশি রোগী থেকে রোগীর পরিজনেরাও। রোগী পরিজন সমর বিশ্বাস বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আসলেও হাসপাতালে পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *