রাজ্য প্রশাসনে মাতৃভাষা বাংলাকে অগ্রাধিকার দিতে এবং সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা আরও সহজবোধ্য করে তুলতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। আগামী ১লা সেপ্টেম্বর থেকে প্রশাসনিক সমস্ত কাজে বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক হতে চলেছে— মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই ঘোষণার পরেই প্রথম দফতর হিসেবে সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করল পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর। সরকারি কাজে বাংলা ভাষার প্রসার ও প্রয়োগে নবান্নের এই পদক্ষেপকে এক বিরাট যুগান্তকারী অধ্যায় বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
তবে এই প্রথম সর্ববাংলা বিজ্ঞপ্তির নেপথ্যে রয়েছে একটি বিশেষ প্রেক্ষাপটও। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একশ্রেণীর অসাধু চক্র গুজব ছড়িয়ে দাবি করেছিল যে, রাজ্য সরকার নাকি প্রতিটি পরিবারের জন্য পঞ্চায়েত কর বাড়িয়ে বার্ষিক ১,২০০ টাকা করেছে। এই বিভ্রান্তিকর খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। সেই ভুয়ো খবরকে এক নিমেষে চুরমার করে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর তাদের সম্পূর্ণ বাংলা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে— কর বৃদ্ধির বিষয়ে সরকার কোনো নির্দেশিকা জারি করেনি। ছড়িয়ে পড়া এই তথ্যটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য।
গুজবে কান না দিয়ে কেবল সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর ভরসা রাখার জন্য রাজ্যবাসীর কাছে বিশেষ আবেদন জানানো হয়েছে। একদিকে প্রশাসনিক কাজকর্মে জটিল ইংরেজি বাদ দিয়ে মাতৃভাষাকে প্রাধান্য দেওয়া, আর অন্যদিকে ভুয়ো খবরের মোকাবিলায় মুহূর্তের মধ্যে সত্য তথ্য সামনে এনে সাধারণ মানুষের বিভ্রান্তি দূর করা— নব্য সরকারের এই জোড়া বার্তা কিন্তু রাজ্যজুড়ে দারুণ প্রশংসা কুড়িয়েছে। তো স্বচ্ছতা বজায় রেখে এবং নিজের ভাষার সম্মান রক্ষা করে রাজ্য পরিচালনা করার এই সদিচ্ছা সত্যি এক নতুন ও জনমুখী বাংলার উজ্জ্বল ছবি ফুটিয়ে তোলে।