রাজনীতির দাবার বোর্ডে যখন একের পর এক চাল বদলাচ্ছে, ঠিক তখনই রাজ্য রাজনীতিতে আছড়ে পড়ল এক বিরাট ঝড়ের পূর্বাভাস! দরজা কেবল খোলাই রাখা হয়নি, এবার যেন তা একদম হাট করে খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। দলের ভেতরে একশ্রেণীর কর্মীর অসন্তোষ ও প্রতিবাদের তীব্র আঁচ থাকা সত্ত্বেও— সুস্মিতা দেব, সুখেন্দু শেখর রায় এবং প্রকাশ চিক বরাইকের মতো তিন প্রভাবশালী সাংসদকে নিজেদের শিবিরে টেনে নিয়ে মাস্টারস্ট্রোক দিয়ে ফেলেছিল বিজেপি। আর এবার সেই প্রক্রিয়াকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে রাজ্যের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ দলকে গোড়া থেকে দুর্বল করতে কোনো রকম ছুঁতমার্গ না রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে পদ্ম নেতৃত্ব। এই কারণেই একদম তৈরী বিজেপির ‘প্ল্যান বি’, কিন্তু ঠিক কী এই ‘প্ল্যান বি’?
সূত্রের খবর, সুস্মিতা কিংবা সুখেন্দুদের দলে টানার পর রাজ্য নেতৃত্বের তরফে বলা হয়েছিল— এটি একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা মাত্র, কোনো নীতিগত বিচ্যুতি নয়। তবে ভেতরের খবর বলছে, এখন আর সেই সীমাবদ্ধতায় আটকে থাকতে চাইছে না দল। পঞ্চায়েত থেকে লোকসভা— রাজ্য বিরোধী দলের সব স্তর থেকেই এবার দলে নেওয়ার বহর বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হবে। আর এই বিশাল ‘অপারেশনে’ রাজনৈতিক লঞ্চপ্যাড হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে ঋতব্রত সমর্থিত মূল ধারা এবং এনসিপিআই-এর মতো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মগুলোকে। সরাসরি যোগদানে দলের ভেতরের অসন্তোষ এড়াতে এবং একই সাথে মূল প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করতেই এই চতুর্মুখী কৌশল সাজানো হচ্ছে।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে— এতদিন ধরে যে সাধারণ কর্মী-সমর্থকরা সমস্ত প্রতিকূলতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করে মাঠে টিকে রইলেন, তাঁদের ক্ষোভ কীভাবে সামাল দেবে নেতৃত্ব? এই সমীকরণের উত্তরে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কিন্তু বেশ স্পষ্ট ও কঠোর। সুকান্ত মজুমদারের মতো শীর্ষ নেতৃত্বের সাফ কথা— বৃহত্তর লক্ষ্য ও রাজনৈতিক স্থায়িত্বের স্বার্থে ছোটখাটো ব্যক্তিগত অসন্তোষ বা ক্ষুদ্র স্বার্থকে কিছুটা হলেও জলাঞ্জলি দিতে হয়। দুর্নীতির ছায়া থাকা কোনো নতুন মুখ এলে তাঁর ওপর কড়া নজর রাখবে দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। কারণ, লক্ষ্য এখন একটাই— শক্তি বাড়িয়ে রাজ্যের রাজনীতিতে স্থায়ী শাসন কায়েম করা। তো আদর্শ বনাম সমীকরণের এই লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।