রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের মাত্র তিন মাস অতিক্রান্ত হতে না হতেই, এবার দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতি বজায় রাখতে অভূতপূর্ব ও কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য বিজেপি। নব্য রাজ্য সরকার গঠনের পর থেকেই যেখানে স্বচ্ছ শাসনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, সেখানে বেশ কিছু জেলা স্তরের বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গ, দলবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং এমনকি তোলাবাজির মতো মারাত্মক অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছে। আর এই সমস্ত অভিযোগের খবর কানে পৌঁছাতেই কোনো রকম আপস না করে চরম কঠোর অবস্থান নিয়েছেন রাজ্য বিজেপির বর্ষীয়ান নেতৃত্ব।
রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য আগেই দলের অন্দরে দুর্নীতি ও অপকর্মের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। সেই হুঙ্কার কেবল মুখের কথাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; ইতিমধ্যেই দলবিরোধী কাজ ও দুর্নীতির অভিযোগে রাজ্যজুড়ে ২২ জন নেতাকে সরাসরি দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং ২৫০ জনেরও বেশি নেতা-কর্মীকে শোকজ করেছে বিজেপির শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। তবে এখানেই শেষ নয়, দলের ভিতর থেকে সমস্ত আগাছা উপড়ে ফেলতে এবার অন্তত ১২টি সাংগঠনিক জেলায় সভাপতি থেকে শুরু করে পদে থাকা একাধিক মুখ পরিবর্তনের চূড়ান্ত ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হয়ে গিয়েছে।
দলের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, যে সমস্ত জেলায় অশান্তি ও শৃঙ্খলাভঙ্গের মাত্রা বেশি ছিল, সেখানে নির্বাচনের ফল তুলনামূলকভাবে আশানুরূপ হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, কোনো কোনো এলাকায় প্রতিপক্ষ শিবিরের অসাধু অংশের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আর্থিক লেনদেন বা তোলাবাজিতে জড়িয়ে পড়ছিলেন কতিপয় স্থানীয় নেতা। এই ধরণের অনৈতিক কর্মকাণ্ড রুখতে এবং ক্ষমতার সুবিধা নিয়ে কোনো নেতা যাতে সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব খাটাতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এই বিরাট পদক্ষপ নেওয়া হচ্ছে। তো নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দল পরিচালনা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার মান ধরে রাখতে নব্য রাজ্য সরকারের নেতৃত্বাধীন বঙ্গ-বিজেপির এই নজিরবিহীন ঝাড়াই-বাছাই সত্যি এক দায়িত্বশীল ও সুশৃঙ্খল রাজনীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।