আবেগপ্রবণ অভয়ার মা “রত্ন পেয়েছিলাম, হারিয়ে ফেলেছি” অভয়ার মায়ের কথায় চোখে জল মুখ্যমন্ত্রীর!

অভিশপ্ত ৯ই অগাস্ট— বঙ্গ ইতিহাসের সেই ভয়ঙ্কর ও কালিমালিপ্ত দিনটির দেখতে দেখতে আজ দুটি বছর পূর্ণ হলো। দুই বছর আগে ঠিক এই দিনেই আরজি কর হাসপাতালের চার দেয়ালের ভেতরে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও খুন করা হয়েছিল তরুণী চিকিৎসককে। সেই নারকীয় অভয়া কাণ্ডের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে আজ শোক, শ্রদ্ধা আর ন্যায়বিচারের দাবিতে স্তব্ধ হয়ে গেল গোটা বাংলা। নবান্নের বিশেষ নির্দেশে আজ সকাল ১১টায় রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে দুই মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়। সরকারি উদ্যোগে এভাবে অভয়া স্মরণের নজির বঙ্গ রাজনীতি ও প্রশাসনিক ইতিহাসে সত্যি এক নজিরবিহীন পরিবেশ তৈরি করেছে।

বিকেলে পানিহাটিতে অভয়ার স্মরণে আয়োজিত বিশেষ মঞ্চে যখন বক্তব্য রাখতে ওঠেন অভয়ার মা তথা স্থানীয় বিধায়ক রত্না দেবনাথ, তখন সেখানে তৈরি হয় এক চরম আবেগঘন পরিস্থিতি। মেয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নাভেজা কণ্ঠে তিনি বলেন— “একটি রত্ন পেয়েছিলাম, যা চিরতরে হারিয়ে ফেলেছি। কিন্তু আমি লড়াই ছাড়িনি, রোগীদের খুব যত্ন করত আমার মেয়ে, ওর এই অদম্য লড়াই আর আদর্শকে আমি প্রতিষ্ঠা করেই ছাড়ব।” অভয়ার মায়ের এই মর্মস্পর্শী কথা আর না-বলা বেদনার স্মৃতি শুনে মঞ্চে বসেই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী। রুমাল দিয়ে চোখের জল মুছে তিনি অভয়ার পরিবার ও রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে এক অত্যন্ত কড়া ও বার্তা প্রদান করেন।

মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, অতীতে এক ভয়ঙ্কর ও অত্যাচারী শাসনের মুখোমুখি হতে হয়েছিল এই পরিবারকে, এমনকি পুলিশি অত্যাচারের শিকার পর্যন্ত হতে হয়েছিল তাঁদের। কিন্তু এখন আর সেই দিন নেই। বর্তমান সরকার ন্যায়বিচারের শেষ দেখে ছাড়বে। অতীতে রাজনৈতিক নির্দেশের আশায় যেভাবে তদন্ত আটকে থাকত, সেই সংস্কৃতি এবার পুরোপুরি বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য পুলিশকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে— রাজ্যে নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির ফোন কল বা নির্দেশিকার জন্য অপেক্ষা না করে অবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। তো একদিকে স্বজন হারানোর করুণ অশ্রু আর অন্যদিকে প্রশাসনের এই কঠোর ও দৃঢ় অবস্থানের বার্তা— রাজ্যজুড়ে অভয়া কাণ্ডের বিচার পাওয়ার লড়াইকে এক নতুন ও নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *