বিধানসভায় সিপিএম বিধায়কের প্রশংসা শুভেন্দু অধিকারীর !

রাজনৈতিক মতাদর্শের লড়াই যাই থাক না কেন, ব্যক্তিগত সততা ও ত্যাগের সম্মান কীভাবে দিতে হয়, বিধানসভার ভেতরে ঠিক তেমনই এক নজির গড়ে তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১৯৮২ সালে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর পিতা শিশির অধিকারীর সাথে একই সাথে বিধায়ক হিসেবে পথচলা শুরু করেছিলেন মহিষাদলের প্রবীণ শিক্ষক তথা সিপিএমের প্রাক্তন বিধায়ক দীনবন্ধু মণ্ডল। আজ প্রায় ৪৪ বছর পর সেই দীনবন্ধুবাবুর অতি সাধারণ জীবনযাত্রা ও নিরহংকার ব্যক্তিত্বের ভূয়সী প্রশংসা এখন সমগ্র রাজ্য রাজনীতির চর্চার কেন্দ্রে।

বিধানসভায় প্রাক্তন বিধায়কদের চিকিৎসা সংক্রান্ত ভাতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করতে গিয়ে এই প্রবীণ বাম নেতার কথা স্মরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে বলেন— রাজনীতির জগতে সততা ও নিষ্ঠাকে পাথেয় করে কীভাবে সাধারণ জীবনযাপন করা যায়, তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ মহিষাদলের দীনবন্ধুবাবু কিংবা ক্যানিংয়ের প্রাক্তন আরএসপি বিধায়ক সুভাষ নস্কর। ৮৪ বছর বয়সে পৌঁছেও দীনবন্ধুবাবু আজও প্রতিদিন সাইকেল চালিয়ে যাতায়াত করেন, স্থানীয় বাজার থেকে আনাজ কেনেন এবং আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতো কাঠের বেঞ্চে বসে চা খেতে খেতে মানুষের সুখ-দুঃখের কথা শোনেন।

বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর মুখে নিজের এই অনাড়ম্বর জীবনযাত্রার প্রশংসা শুনে গভীরভাবে আপ্লুত হয়েছেন ৮৪ বছরের অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক দীনবন্ধু মণ্ডল। তিনি জানান— কে কোন দল করল সেটা বড় কথা নয়, রাজনৈতিক মতভেদের উর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক এই সৌজন্য ও সম্পর্কটাই থাকা উচিত। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে পুরনো দিনের লড়াকু নেতাদের সম্মান জানাচ্ছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর জন্য সরকারের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি প্রবীণ এই বামপন্থী প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মুখ্যমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়ে জানান— রাজ্যে বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য আরও বেশি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাই হোক সরকারের মূল অগ্রাধিকার। তো দলীয় মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই রাজনৈতিক সৌজন্য প্রকাশ বঙ্গ রাজনীতিতে সত্যিই এক পরম প্রাপ্তি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *