women safety

নারী নিরাপত্তায় পুলিশকে ‘ফ্রি হ্যান্ড’ থেকে দুর্গা স্কোয়াড ! ১০০ দিনে মহিলাদের নিরাপত্তায় শুভেন্দু সরকারের মাস্টারস্ট্রোক!

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর ১০০ দিন অতিক্রম করল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। আর এই ১০০ দিনে রাজ্য প্রশাসনের অন্যতম মূল অগ্রাধিকার ছিল নারী সুরক্ষা ও নারী ক্ষমতায়ন। ১৫ বছরের প্রশাসনিক ইতিহাস পেছনে ফেলে নতুন সরকার কতটা বদলাতে পারল বাংলার মহিলাদের জীবনযাত্রা?

প্রথমেই আসা যাক সামাজিক সুরক্ষা ও আর্থিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে। রাজ্য সরকারের নতুন উদ্যোগ ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের মাধ্যমে ১ কোটি ৪৫ লক্ষ যোগ্য মহিলার অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা। পাশাপাশি মহিলাদের স্বাবলম্বী করতে ৭৫ লক্ষ নারী উদ্যোক্তাকে ‘লাখপতি দিদি’ গড়ে তোলার প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সাহায্য দিচ্ছে নবান্ন। সরকারি বাসে মহিলাদের যাতায়াত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার পাশাপাশি স্বনিযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে নেওয়া হয়েছে একাধিক সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

তবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে নারী নিরাপত্তার ক্ষেত্রে। অপরাধ দমনে পুলিশকে দেওয়া হয়েছে সম্পূর্ণ ‘ফ্রি হ্যান্ড’। অর্থাৎ, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে আর কোনো রাজনৈতিক নেতা বা উপরমহলের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। নবান্ন থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে— অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিলে খোদ মুখ্যমন্ত্রী ও পুরো প্রশাসন ঢাল হয়ে পুলিশের পাশে দাঁড়াবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রাজ্যের প্রতিটি থানায় ২৪ ঘণ্টার বিশেষ মহিলা হেল্প ডেসকের পাশাপাশি রাজপথে নামানো হয়েছে ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’ নামের বিশেষ বাইক বাহিনী, যা মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। অন্যদিকে, আরজি কর কাণ্ড থেকে শুরু করে পূর্বতন জমানার বিতর্কিত ঘটনাগুলোতে শুরু হয়েছে নিরপেক্ষ পুনর্তদন্ত। প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে খড়দহ থানায় নতুন এফআইআর ও আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিত করেছে নতুন সরকার। অপরাধ দমনে নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখতে আইপিএস দময়ন্তী সেনের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে বিশেষ নারী সুরক্ষা প্যানেল। সংক্ষেপে বলতে গেলে, ক্ষমতায় আসার মাত্র ১০০ দিনের মধ্যেই নারী সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নের নিরিখে এক নতুন দিশা দেখাতে শুরু করেছে বাংলার বর্তমান প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *