সরকারের থেকে চার-পাঁচটা করে বাড়ির টাকা লুটের দিন শেষ !আবাস যোজনায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অ্যাকশনে মুখ্যমন্ত্রী !

বিগত সরকারের জমানায় গরিবের পাকা ছাদের টাকা লুট করে কীভাবে প্রভাবশালীদের ইমারত গড়ে উঠেছিল, তার এক রোমহর্ষক সত্য এবার সরাসরি তুলে ধরলেন খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী! বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো-টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। কাটমানি, তোলাবাজি আর সিন্ডিকেট রাজের জাল ছিঁড়ে এবার সরাসরি তৃণমূল জমানার অন্যতম সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারি— অর্থাৎ ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’র মহা-লুটের পর্দাফাঁস করতে আসরে নামল নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন— ভুয়ো ছবি দেখিয়ে যারা গরিবের টাকা আত্মসাৎ করেছে, তাদের শুধু সেই অর্থ ফেরত দিতেই হবে না, শ্রীঘরের ভাতও খেতে হবে!

সরকারি আবাসন বরাদ্দের ক্ষেত্রে পূর্বতন সরকারের চরম স্বজনপোষণ ও কাঠামোগত দুর্নীতির রূপরেখা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন— অতীতে প্রকৃত দরিদ্র ও সর্বহারা মানুষদের বঞ্চিত করে এক শ্রেণির অযোগ্য সুবিধাবাদী ব্যক্তি সরকারি অর্থের অপব্যবহার করেছে। নিজের বিশাল পাকা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও মাটির ভগ্নপ্রায় দেওয়াল, অস্থায়ী রান্নাঘর কিংবা স্রেফ একটা গোয়ালঘরের ছবি তুলে সেটিকে নিজের একমাত্র বাসগৃহ হিসেবে প্রমাণপত্র বানিয়ে একের পর এক সরকারি বাড়ির টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তারা! কোনো কোনো প্রভাবশালী পরিবারের তো চার থেকে পাঁচটি পর্যন্ত বাড়ির টাকা তছরুপের মারাত্মক অভিযোগ সামনে এসেছে।

এই চরম অন্যায়ের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন— “আগের সরকারের আমলে আবাস যোজনায় যে ব্যাপক দুর্নীতি ও তহবিল তছরুপ হয়েছে, তার প্রতিটি কেস এখন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ফিল্ড ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হচ্ছে। যারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে বা গোয়ালঘর দেখিয়ে সরকারি আবাসনের টাকা আত্মসাৎ করেছে, তাদের কাছ থেকে সরকার সম্পূর্ণ অর্থ আদায় করবে। শুধু টাকা ফেরত নেওয়াই নয়, জনগণের করের টাকা লুটের অপরাধে তাদের ভারতীয় আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে এবং জেল খাটতে হবে।”

একই সঙ্গে আবাস যোজনা পরিচালনায় নতুন যুগের স্বচ্ছতার রূপরেখা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আশ্বস্ত করে বলেছেন— নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী রাজনৈতিক পরিচয় বা ধর্মীয় ভেদাভেদ সম্পূর্ণ দূরে সরিয়ে শুধুমাত্র আসল, অভাবী ও যোগ্য উপভোক্তাদের হাতেই আবাসনের টাকা তুলে দেওয়া হবে। কোনো দলের ক্যাডার নয়, ছাদ পাবে বাংলার মাটির ঘরের আসল মানুষ। এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী এক যুগান্তকারী মানবিক ঘোষণাও করেছেন— সাম্প্রতিক বন্যায় যে সমস্ত দরিদ্র পরিবারের মাটির ঘর ধসে গিয়েছে, তাঁদের নতুন করে পাকা বাড়ি নির্মাণের জন্য সরাসরি ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে রাজ্য সরকার।

গরিবের হকের টাকা লুটে যারা নিজেদের আখের গুছিয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে নবান্নের এই কঠোর অভিযান স্পষ্ট বার্তা দিল— বদলের বাংলায় আর কোনো ভুয়ো ছবি বা গোয়ালঘরের ফন্দি টিকবে না; পাই-পয়সার হিসাব বুঝে নিয়েই স্বচ্ছতার নতুন নজির গড়তে চলেছে বর্তমান প্রশাসন!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *