“দেশবিরোধীদের বাংলা ধোলাই দিন, পুরস্কৃত করব!” যাদবপুর কান্ডে ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচির চরম নিদান !

গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া দফায় দফায় সংঘর্ষ, মারধর, ভাঙচুর এমনকি অরবিন্দ ভবনের সামনে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষী থাকল কলকাতার ঐতিহ্যবাহী যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র সংসদ বা ফেটসুর (FETSU) জেনারেল বডি বৈঠককে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের ছাত্র সংগঠন এবিভিপি এবং সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর মধ্যে শুরু হয় রক্তক্ষয়ী সংঘাত। আর রাত পেরিয়ে সকাল হতেই এই ছাত্র সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে ক্যাম্পাসের বাইরে কলকাতার রাজপথে, যা নিয়ে এখন চরম তপ্ত সমগ্র রাজ্য রাজনীতি।

ঘটনায় জখম ছাত্রদের কেপিসি হাসপাতালে দেখতে গিয়ে যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় উগ্র মেজাজে সংবাদমাধ্যমের সামনে জানান— “বিশ্ববিদ্যালয়কে নকশাল আর দেশবিরোধী শক্তিদের দিয়ে ভর্তি করে রাখা চলবে না, সারারাত তাণ্ডব চালিয়ে ওদের ঘরে ঢুকে টেনে বের করা হবে।” এমনকি এবিভিপির পক্ষ থেকেও যাদবপুরে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালানোর কথা ঘোষণা করা হয়। তবে এর চেয়েও একধাপ এগিয়ে চরম বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচি। তিনি স্পষ্ট নিদান দিয়ে জানান— যাদবপুরের যে সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে দেশবিরোধী চিন্তাভাবনা রয়েছে, তাঁদের একদম ‘বাংলা ধোলাই’ দেওয়া উচিত! এমনকি যারা এই কাজ করবে, তাঁদের নিজে হাতে সাধুবাদ ও পুরস্কৃত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

তবে কৌস্তভ ও শর্বরীর এই হিংসাত্মক মন্তব্যের দায় কিন্তু একেবারেই নেয়নি বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। বিতর্ক এড়াতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সাফ জানিয়ে দেন— “এবিভিপি বিজেপির কোনো শাখা সংগঠন নয়, তারা সম্পূর্ণ স্বাধীন ও জাতীয়তাবাদী দল। ক্যাম্পাসের ভেতরের রাজনীতি নিয়ে বিজেপির নীতিগত কিছু বলার নেই।”

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সুর চড়িয়েছেন বাম নেত্রী দীপ্সিতা ধর। অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রমাণের কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন— “ক্যাম্পাসে ঢুকে যারা আগুন জ্বালালো, তারা তো ভূত নয়! রাজ্য সরকার ও শুভেন্দু অধিকারী যে গুন্ডাদমন আইনের কথা বলছেন, সেই আইন প্রয়োগ করে বহিরাগতদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না কেন?” দু’পক্ষের রাজপথ অবরোধ, ভাঙচুর ও পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে ফেলার এই চরম পরিস্থিতিতে যাদবপুর ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা ও রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর সমগ্র রাজ্যের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *