হিন্দু যুবকদের দ্রুত বিয়ে করে পাঁচটি করে সন্তান নেওয়ার পরামর্শ দিলেন বিজেপির লোকসভা সাংসদ গজেন্দ্র সিং পটেল। মধ্যপ্রদেশের বড়ওয়ানিতে শুক্রবার রাতে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি হিন্দুদের জন্মহার এবং দেশের জনসংখ্যার পরিবর্তন নিয়ে একাধিক দাবি করেন। তাঁর বক্তব্যের একটি অংশে যুবকদের দেরিতে বিয়ে এবং ছোট পরিবার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতেও দেখা যায়। গজেন্দ্র সিং পটেলের বক্তব্য অনুযায়ী, আজকের দিনে অনেক যুবক ৩০, ৩৫ এমনকি ৩৭ বছর বয়সে বিয়ে করছেন। তাঁদের অনেকের পরিবারে আবার মাত্র একটি সন্তান।
তাঁর যুক্তি আগের প্রজন্মে ২০, ২১ বা ২২ বছর বয়সেই বিয়ে হয়ে যেত এবং একটি পরিবারে চার, পাঁচ, ছয় এমনকি সাতটি সন্তানও থাকত। তিনি বলেছেন, হিন্দু যুবকদের দ্রুত বিয়ে করা উচিত এবং পাঁচটি করে সন্তান নেওয়া উচিত। পটেল তাঁর বক্তব্যে ‘সনাতনী’ পরিচয়ের কথাও উল্লেখ করেন এবং বলেন, এই ধরনের কথা বলতে তিনি ভয় পান না। পটেল দাবি করেছেন, স্বাধীনতার পর থেকে ভারতের জনসংখ্যার অনুপাতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পরিবর্তন ঘটেছে।
২০১১ সালের জনগণনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, একটি সম্প্রদায়ের জনসংখ্যার অংশ কমেছে, অন্য একটি সম্প্রদায়ের অংশ বেড়েছে। এমনকি তিনি দুই সম্প্রদায়ের জন্মহার যথাক্রমে ১.৯ এবং ২.৯ বলেও উল্লেখ করেছেন। আরও একটি দাবি করেছেন তিনি—বর্তমানে চারটি শিশু জন্মালে তার মধ্যে একজন হিন্দু এবং তিনজন অন্য সম্প্রদায়ের। তবে পটেলের বক্তব্য শুধু জনসংখ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি বলেন, কঠিন পরিস্থিতিতে সনাতনীরা একে অপরের পাশে দাঁড়াবেন এবং তাঁদের সাহায্যের জন্য কংগ্রেস বা বিজেপির উপর নির্ভর করতে হবে না।
বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে কারণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় কংগ্রেস বিধায়ক রাজন মান্ডলোই এমনটাই বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি যুব সমাজের শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উপরেও জোর দেন পটেল। তিনি জিমের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী আখড়ার প্রসার ঘটানোর কথা বলেন। দেবীর ভক্তির পাশাপাশি শক্তির প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি এবং বক্তব্যের এক পর্যায়ে অস্ত্র রাখার প্রসঙ্গও তোলেন। যুব সমাজের মধ্যে মাদক সেবন, পণ এবং আড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাপন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিজেপির এই সাংসদ। তিনি ‘৩ডি’ প্রচারের কথা বলেন যেখানে ডিজে, ড্রাগস এবং পণকে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যা হিসেবে তুলে ধরা হয়। পটেলের দাবি, ডিজের সঙ্গে নাচা যুবকদের প্রায় ১০০ শতাংশই সনাতনী এবং তাঁদের মধ্যে ৬০ শতাংশ নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নাচেন।