বন্যাবিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন এবং প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার সবংয়ে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আকাশপথে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শনের পর জুল্কাপুর ফুটবল মাঠে নামে তাঁর হেলিকপ্টার। সেখান থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে কনভয় নিয়ে সবং বিডিও অফিসের উদ্দেশে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু পথে হরিরহাট অনাথ স্মৃতি গার্লস হাইস্কুলের সামনে আচমকাই বদলে গেল পরিস্থিতি। মুখ্যমন্ত্রীকে একঝলক দেখতে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়েছিল একদল স্কুলছাত্রী। কনভয় সামনে আসতেই উৎসাহে হাত বাড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে কাছে আসার অনুরোধ করে তারা।
আর পড়ুয়াদের সেই ডাক উপেক্ষা করলেন না মুখ্যমন্ত্রী। হঠাৎই থেমে গেল কনভয়। গাড়ি থেকে নিজেই নেমে পড়লেন তিনি। রাস্তার উপরেই শুরু হল পড়ুয়াদের সঙ্গে কথাবার্তা। একে একে ছাত্রীদের সঙ্গে হাত মেলান মুখ্যমন্ত্রী। মুহূর্তের মধ্যে স্কুলের সামনে তৈরি হয় উৎসবের আবহ। খুদে পড়ুয়াদের মুখে তখন উচ্ছ্বাস। এরই মাঝে এক পড়ুয়া মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেয় বিদ্যাসাগরের একটি ছবি। ছবিটি হাতে নিয়ে সেই পড়ুয়ার সঙ্গেও কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে শুধু পড়ুয়াদের সঙ্গেই নয়, স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে স্কুলের দীর্ঘদিনের পরিকাঠামোগত সমস্যাগুলির কথাও তুলে ধরেন শিক্ষকরা। তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি আবেদনপত্র। হরিরহাট অনাথ স্মৃতি গার্লস হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা গীলাতি সামন্ত জানান, মুখ্যমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত। স্কুলের বিভিন্ন সমস্যার কথা জানিয়ে তাঁর হাতে আবেদনপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীও হাসিমুখে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সমস্যাগুলি শুনেছেন।
স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্ষার সময় মিড-ডে মিল খাওয়ার জায়গা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। ফলে সমস্যায় পড়তে হয় পড়ুয়াদের। শুধু তাই নয়, ছাত্রীদের হস্টেলের পরিকাঠামো নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, সেখানে নিয়মিত হনুমানের উৎপাত হয়। এমনকি অ্যাসবেস্টাসের ছাদ ভেঙে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। এই সমস্যাগুলির পাশাপাশি স্কুলের সামগ্রিক পরিকাঠামোর উন্নয়নের বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানানো হয়। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তরফে মুখ্যমন্ত্রীকে স্কুলের ভিতরে এসে পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখার অনুরোধও করা হয়। তবে ব্যস্ত কর্মসূচির কারণে সেই সময় স্কুলে ঢুকতে পারেননি তিনি। পরে স্কুলে আসবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী—এমনটাই দাবি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার।
একদিকে বন্যা পরিস্থিতি, অন্যদিকে প্রশাসনিক বৈঠকের ব্যস্ততা। তার মাঝেই পড়ুয়াদের আবদারে কনভয় থামিয়ে গাড়ি থেকে নেমে তাঁদের সঙ্গে কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্মসূচির বাইরে এই আচমকা মুহূর্তেই সামনে এল মুখ্যমন্ত্রী ও পড়ুয়াদের এক অন্য ছবি। কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপের মধ্যেও স্কুলছাত্রীদের ডাক শুনে থেমে যাওয়া, তাঁদের সঙ্গে হাত মেলানো, কথা বলা এবং স্কুলের সমস্যার কথা শোনা সব মিলিয়ে সবংয়ের রাস্তায় তৈরি হল এক অন্যরকম দৃশ্য।