শুভেন্দু অধিকারীর আবেদনে তোলপাড় বাংলার পুজোমহল !সরকারি অনুদানের ১ লাখ টাকা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করল শহরের ৩ মহারথী ক্লাব!

রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর শারদোৎসব ঘিরে শুরু হলো এক অভাবনীয় ও নজিরবিহীন অধ্যায়! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এক আহ্বানেই তোলপাড় হয়ে গেল তিলোত্তমার পুজোমহল। দুর্গাপুজোয় কমিটি পিছু ১ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেও বড় বাজেটের পুজো কমিটিগুলিকে এই অনুদান প্রত্যাখ্যান করার যে আবেদন রেখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী, মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সেই আহ্বানে এক ঐতিহাসিক সাড়া মিলল। সরকারি অনুদানের ১ লাখ টাকার চেক নিতে সরাসরি অস্বীকার করল শহরের প্রথম সারির তিন মহারথী পুজো— দক্ষিণের সন্তোষপুর লেক পল্লি এবং উত্তরের ঐতিহ্যবাহী টালা প্রত্যয় ও চোরবাগান সার্বজনীন!

মিলনমেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত সমন্বয় বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত দৃঢ় কিন্তু মানবিক বার্তা দিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন— ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্বিচারে সরকারি অর্থ বিলি করার মানসিকতা তাঁর সরকারের নেই। যে সমস্ত ছোট পুজো কমিটির আর্থিক টানাপোড়েন রয়েছে, এই সাহায্য না পেলে যাদের পুজো করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, সরকারি কোষাগারের অর্থ কেবল তাদের জন্যই বরাদ্দ হওয়া উচিত। যে সমস্ত বড় ক্লাবের কোটি কোটি টাকার বাজেট এবং একাধিক কর্পোরেট স্পনসর রয়েছে, তারা কেন সরকারি অর্থের ভাগ বসাবে? মুখ্যমন্ত্রীর এই সোজাসাপ্টা নৈতিক আবেদন যে শুধু মুখের কথাই ছিল না, শহরের তিন মেগা পুজোর সিদ্ধান্তেই তা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে গেল।

অনুদান রাজনীতিকে কাঠগড়ায় তুলে বিগত সরকারের তোষণের তীব্র সমালোচনাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি কটাক্ষ করে বলেন— আগের জমানায় যেন সকালে মাছের বাজারে দরদামের মতো করে পুজোর অনুদান বাড়ানো হতো! পঁচিশ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকায় পৌঁছে দিয়ে ক্লাবগুলিকে সরকারি অনুদানের ওপর পরনির্ভরশীল করে তোলার এক বিপজ্জনক সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু ভোটের বাক্সে সেই তোষণের রাজনীতিতে কোনো লাভ হয়নি বলেই সাফ জানিয়ে দেন তিনি।

সেই অচলাবস্থা ভেঙে এবার স্বনির্ভরতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তুলে ধরল সন্তোষপুর লেক পল্লি, টালা প্রত্যয় এবং চোরবাগান সার্বজনীন। বড় বাজেটের ক্লাবগুলি সরকারি টাকা না নিয়ে তা ছোট ও অসহায় কমিটিগুলির জন্য ছেড়ে দেওয়ায় বঙ্গ সংস্কৃতির অঙ্গনে এক সম্পূর্ণ ইতিবাচক পরিবর্তনের বাতাস বইতে শুরু করেছে। ক্লাবগুলির এই সাহসী ও নিঃস্বার্থ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে সচেতন নাগরিক সমাজ। উৎসবের আবহে নবান্নের এই সুনির্দিষ্ট নীতি প্রমাণ করে দিল— ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করে সদিচ্ছা থাকলে রাজনীতির রঙ পেরিয়েও এক স্বচ্ছ ও সুস্থ সামাজিক ঐতিহ্য গড়ে তোলা সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *