বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের হাত ধরে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন দেশের গর্ব, অলিম্পিক পদকজয়ী টেনিস কিংবদন্তি লিয়েন্ডার পেজ। সেই সময় নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের সঙ্গে তাঁর হাই-প্রোফাইল বৈঠকের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোরালো জল্পনা ছিল— হয়তো নির্বাচনী ময়দানে প্রত্যক্ষ প্রার্থী হিসেবে দেখা যাবে তাঁকে। বিধানসভা ভোটে প্রচারে ঝড় তুললেও তিনি প্রার্থী হননি, এমনকি পুরভোটের মুখেও তাঁকে নিয়ে নতুন করে গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এবার সমস্ত রাজনৈতিক সমীকরণকে পেছনে ফেলে সম্পূর্ণ এক নতুন এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক নির্বাচনের ময়দানে নামতে চলেছেন লিয়েন্ডার পেজ!
তবে কোনো পুরসভা বা বিধানসভার ভোট নয়— লিয়েন্ডার পেজ এবার সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চলেছেন ভারতীয় ক্রীড়া প্রশাসনের সর্বোচ্চ মঞ্চে! অল ইন্ডিয়া টেনিস অ্যাসোসিয়েশন বা এআইটিএ-র সভাপতি পদের মেগা নির্বাচনে এবার প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ের ময়দানে নামছেন তিনি। গত বছর বেঙ্গল টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে বিপুল ভোটে জিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে ইতিমধ্যেই নিজের প্রশাসনিক দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন এই টেনিস তারকা। এবার জাতীয় স্তরে ভারতীয় টেনিসের ভাগ্য নির্ধারণের চাবিকাঠি নিজের কাঁধে তুলে নেওয়ার লক্ষ্যে কোমর বাঁধছেন তিনি।
ইতিমধ্যেই তিনি ‘স্পোর্টস পার্সন অফ আউটস্ট্যান্ডিং মেরিট’ রস্টারে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছেন এবং শীর্ষ পদপ্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম প্রস্তাবও করা হয়েছে। এই হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনে তাঁর সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন অভিজ্ঞ ক্রীড়া প্রশাসক রোহিত রাজপাল। তবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে লিয়েন্ডার পেজের বিপুল অভিজ্ঞতা এবং অলিম্পিক মঞ্চে ভারতের নাম উজ্জ্বল করার গৌরব তাঁকে এই লড়াইয়ে অনেকটাই এগিয়ে রাখছে বলে মনে করছে ক্রীড়া মহল।
এই মেগা পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের এক সুদূরপ্রসারী জাতীয় ভাবনা। ২০৩৬ সালের অলিম্পিক গেমস ভারতের মাটিতে আয়োজন করার জন্য ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক স্তরে জোরদার প্রস্তুতি ও লবিং শুরু করেছে মোদী সরকার। সেই লক্ষ্যেই তৈরি হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘মিশন অলিম্পিক ২০৩৬’। দেশের মাটিতে অলিম্পিক আয়োজনের পাশাপাশি টেনিস সহ বিভিন্ন খেলায় ভারত যাতে বিশ্বমানের পদক জয় নিশ্চিত করতে পারে, তার জন্য ক্রীড়া সংস্থাগুলোর নেতৃত্বে পেশাদার ও বিশ্বমানের অ্যাথলিটদের বসাতে চাইছে কেন্দ্র। মাঠের লড়াই জিতে তেরঙ্গা ওড়ানোর পর এবার ক্রীড়া প্রশাসনের মসনদে বসে ভারতীয় টেনিসকে বিশ্বমানের করে তোলার নতুন মিশনে লিয়েন্ডার পেজ কতটা সফল হন, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশের ক্রীড়াপ্রেমীরা#