পুলিশের সামনেই রেখা পাত্রর উগ্র ‘দিদিগিরি’! সন্দেশখালিতে জমি বিবাদে হাতাহাতিতে জড়িয়ে কাঠগড়ায় বিজেপি বিধায়ক!

যে সন্দেশখালিকে হাতিয়ার করে রাজ্যজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রতিনিয়ত গলা ফাটায় বিজেপি, সেই সন্দেশখালিতেই এবার উগ্র ক্ষমতার দম্ভ ও অরাজকতার চরম নজির গড়লেন বিজেপির বিধায়ক রেখা পাত্র। জমি বিবাদকে কেন্দ্র করে খোদ পুলিশের সামনেই তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে হাতাহাতি ও গুণ্ডাগিরিতে জড়িয়ে পড়ার গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। যে বিজেপি প্রতিনিয়ত আইনি শাসন ও সভ্যতার পাঠ দেয়, তাদেরই এক নির্বাচিত বিধায়কের এমন কুরুচিকর ও হিংসাত্মক আচরণে মুখ পুড়েছে পুরো গেরুয়া শিবিরের। সামাজিক মাধ্যমে ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই প্রশ্ন উঠছে—আইন-শৃঙ্খলার দোহাই দেওয়া বিজেপির নেতাদের বাস্তব আচরণ কি তবে স্রেফ গায়ের জোর আর গুন্ডামিতেই সীমাবদ্ধ?
ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছে সন্দেশখালি-২ ব্লকের বউঠাকুরন গ্রামের প্রায় ৯ বিঘা জমি। জমির রেকর্ড ও মালিকানা নিয়ে রেখা পাত্রের পরিবারের শরিকদের সঙ্গে বহুদিনের পুরোনো বিবাদ রয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনিক দরবার পেরিয়ে এমনকি কলকাতা হাই কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। তবে আদালতের তোয়াক্কা না করে জমিতে চাষ করাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি করেন বিধায়ক রেখা পাত্র নিজেই। অভিযোগ, জমিতে চাষ করতে গেলে এলাকার বাসিন্দা সুভাষ নস্করের সঙ্গে রেখা পাত্র ও তাঁর সঙ্গীরা মারাত্মক বচসায় জড়ান। কথা কাটাকাটি একপর্যায়ে উগ্র রূপ নেয় এবং রেখা পাত্রের দলবল সরাসরি প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হয়ে হাতাহাতি শুরু করে।
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক ও মারাত্মক বিষয় হলো, ঘটনাস্থলে রাজ্য পুলিশ ও বিধায়কের সুরক্ষায় থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও বিজেপি বিধায়ক আইন নিজের হাতে তুলে নিতে দ্বিধা করেননি। পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর চোখের সামনেই কীভাবে একজন বিধায়ক এমন তাণ্ডব ও অসভ্যতা চালাতে পারেন, তা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা মারাত্মক প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত না করে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী কেবল নীরব দর্শকের মতো এই অরাজকতা উপভোগ করেছে বলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে সরব থাকা বিজেপি নেতৃত্ব যে কেবল রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই ফাঁকা বুলি ছড়ায়, এই ঘটনা তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিল। বিজেপির উগ্র নীতি ও জনপ্রতিনিধিদের এমন আইন অমান্য করার প্রবণতা প্রমাণ করে দিয়েছে যে ক্ষমতায় বা দায়িত্বে থাকা মানেই তাঁদের কাছে সাধারণ মানুষের জমি দখল ও গায়ের জোর প্রদর্শন করা। ঘটনার পর থেকে রেখা পাত্র ফোন বন্ধ রেখে গা ঢাকা দিলেও, সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—আইনের রক্ষক হয়ে খোদ বিধায়কই যদি গুণ্ডাগিরি চালান, তবে বিজেপির উগ্র রাজনীতির হাত থেকে রাজ্য রক্ষা পাবে কীভাবে?

তাই বিজেপি বিধায়কের এই উগ্র গুণ্ডামি ও আইন অমান্য করার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ আগামী দিনে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। সাধারণ মানুষের জমি ও অধিকার রক্ষা করতে এবং এই নীতিহীন শাসনের অবসান ঘটাতে বিজেপির উগ্র রাজনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এখন সময়ের দাবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *