বিজেপির ‘আচ্ছে দিন’-এর নমুনা! দলীয় পরিচয় ভাঙিয়ে তোলাবাজি ও ধমকানি দিয়ে চরম কেলেঙ্কারি!

‘সুশাসন’ আর ‘দুর্নীতিমুক্ত রাজ্য’ গড়ার ফাঁকা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজেপি যে আসলে কেমন রাজনৈতিক সংস্কৃতি ছড়াতে চায়, তার জলজ্যান্ত প্রমাণ আবার মিলল উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরে। নিজেদের প্রভাবশালী নেতা ও কর্মী হিসেবে জাহির করে তোলাবাজি করা, সাধারণ মানুষকে চরম হুমকি দেওয়া এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার হতে হলো সঞ্জয় দাস নামে এক বিজেপি নেতাকে। কেবল সাধারণ জনগণ বা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের হেনস্থা করেই ক্ষান্ত থাকেনি এই বিজেপি কর্মী, অভিযোগ উঠেছে যে সে চরম ঔদ্ধত্য দেখিয়ে সরকারি আধিকারিকদের পর্যন্ত বদলি করে দেওয়ার অসংলগ্ন হুমকি দিত! স্থানীয় বাসিন্দাদের একের পর এক লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে শেষপর্যন্ত স্বরূপনগর থানার পুলিশ এই দুর্নীতিগ্রস্ত বিজেপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত শিক্ষা দিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্বরূপনগর বিধানসভা এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষমতার গরমে নিজেকে বিজেপির ‘মহাশক্তিধর নেতা’ হিসেবে পরিচয় দিত এই সঞ্জয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে আমজনতা—কাউকেই সে ছাড়ত না। দলীয় পরিচয় ভাঙিয়ে সে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব তৈরি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। এমনকি সরকারি দপ্তরে গিয়ে আধিকারিকদের কাজ আটকে দেওয়া এবং নিজের ক্ষমতা জাহির করতে গিয়ে তাঁদের চাকরি বা বদলি নিয়ে হুমকি দেওয়া ছিল তার নিত্যদিনের অভ্যাস। বিজেপির এই সংস্কৃতি যেন ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে—ক্ষমতার একটু গন্ধ পেলেই কীভাবে সাধারণ মানুষকে পিষে মারতে হয় এবং সরকারি ব্যবস্থাকে বুড়ো আঙুল দেখাতে হয়!
এই লজ্জাজনক ঘটনায় বিজেপির অন্দরে এখন তুমুল হুলুস্থুল। স্থানীয় বিজেপি নেতা বৃন্দাবন সরকার মুখে যতই সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করুন না কেন, তিনি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন যে সঞ্জয় তাদেরই সক্রিয় কর্মী। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এতদিন ধরে একজন বিজেপি কর্মী প্রকাশ্যে এভাবে হুমকি ও তোলাবাজি চালিয়ে গেলেও কেন স্থানীয় দলীয় নেতৃত্ব তার বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়নি? তাহলে কি বিজেপি শিবিরের নিচুতলার কর্মীদের এমন অসামাজিক কার্যকলাপের পেছনে ওপরতলার কোনো সায় ছিল? নাকি বিজেপির কাজই হলো এলাকার শান্তি নষ্ট করা এবং নিজেদের নাম ভাঙিয়ে তোলাবাজি চালিয়ে যাওয়া?
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের বড় একটি অংশ স্পষ্ট জানাচ্ছেন, এলাকায় বিজেপির প্রভাব বৃদ্ধির চেষ্টা শুরু হওয়ার পর থেকেই এরকম তোলাবাজি, হুমকি এবং চোখ রাঙানির ঘটনা বহুগুণ বেড়ে গেছে। যে বিজেপির নেতারা মুখে বড় বড় নৈতিকতার ভাষণ দেন, তাঁদেরই ঘরের কর্মীরা যে দিনদুপুরে মানুষের রক্ত চুষে খাওয়ার রাজনীতিতে মেতেছে, তা সঞ্জয় দাসের এই গ্রেপ্তারিতে স্পষ্ট। ধৃতের বিরুদ্ধে ঠিক কোন কোন ধারায় মামলা রুজু হয়েছে এবং এই তোলাবাজি চক্রের সঙ্গে বিজেপির আর কোন কোন বড় মাথা জড়িয়ে রয়েছে, পুলিশ এখন তার নিবিড় তদন্ত চালাচ্ছে। বিজেপি নেতৃত্বের এই ভণ্ডামি ও তোলাবাজির সংস্কৃতির বিরুদ্ধে স্বরূপনগরের সাধারণ মানুষ আজ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *