মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বর্ধমান সফরে শুভেন্দু অধিকারী৷ সফরের শুরুতেই বর্ধমানের ঐতিহাসিক সর্বমঙ্গলা মন্দিরে দিলেন পুজো৷ কৃষকদের জন্য বড় ঘোষণার সম্ভাবনা৷ আজ পূর্ব বর্ধমান সফরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, মূল নজর কৃষক ও বিদ্যুৎ পরিষেবায়। বর্ধমান পুলিশ লাইনের মাঠে বিদ্যুৎ দফতরের বড় সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘোষণা করেন কৃষকদের ইউনিট প্রতি বিদ্যুতে ২ টাকা করে ভর্তুকি দেবে বর্তমান সরকার৷ চার লক্ষ কৃষক ইউনিট প্রতি ২ টাকা করে ভর্তুকি ছাড় পাবেন৷ এই বছর থেকে ৩ -৩ -৩ মোট ৯ হাজার টাকা পাবেন ৫৪ লক্ষ কৃষক৷
কৃষকদের জন্য আরও বড় স্বস্তির ঘোষণা এসেছে বিদ্যুৎ নিয়ে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগে প্রতি ইউনিটে ২ টাকা করে অতিরিক্ত ভর্তুকি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের দাবি, এর ফলে সেচের খরচ কমবে এবং চাষের সামগ্রিক ব্যয় কিছুটা কমানো সম্ভব হবে। প্রায় ৪ লক্ষ কৃষক এই ইউনিট-পিছু ২ টাকা ভর্তুকির সুবিধা পাবেন বলে জানানো হয়েছে।
কৃষকদের জমির পরিমাণ নিয়েও বড় ঘোষণা। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘কৃষক বন্ধু’র ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হওয়ার পর এক ছটাক জমি থাকলেও বছরে ৪ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে বলে জানানো হয়েছে। যেসব কৃষক PM-KISAN-এর সুবিধা পান না, তাঁদের রাজ্য সরকারের তরফে বছরে ৬ হাজার টাকা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অর্থাৎ, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতার বাইরে থাকা কৃষকদেরও রাজ্য সরকারের সহায়তার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
ধান চাষিদের জন্যও বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, ধান কেনার ক্ষেত্রে কুইন্টাল প্রতি ২০০ টাকা বাড়তি দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকেই ধান কেনার কথা বলা হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, মাঝখানে কোনও দালাল থাকবে না। এমনকি ধান বিক্রির ক্ষেত্রেও কোনও সীমা থাকবে না বলে জানানো হয়েছে—কৃষকরা যতটা ধান দিতে পারবেন, ততটাই দিতে পারবেন। ধানের পাশাপাশি আলু চাষিদের সমস্যার কথাও উঠে এসেছে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। হিমঘরে মজুত আলু এবং আলু চাষিদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের আগেই আলু চাষিদের জন্য বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে।