বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের ঘনঘটা তবুও রকেটের গতিতে ছুটছে ভারতের অর্থনীতি !ঠিক কোন উপায়ে ঝড়ের বেগে বাড়ছে ভারতের জিডিপি?

গোটা বিশ্ব যখন যুদ্ধ, অস্থিরতা আর অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কায় কাঁপছে, ঠিক তখনই রকেটের গতিতে এগিয়ে চলেছে ভারতীয় অর্থনীতির বিজয়রথ! পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ও আন্তর্জাতিক বাজারের তীব্র টালমাটাল পরিস্থিতি সত্ত্বেও দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের প্রবল চাহিদাকে শক্ত ভিত করে এক নজিরবিহীন ইতিবাচক ইঙ্গিত দিল চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিক। আর এই অদম্য অগ্রগতির জেরেই এবার চলতি আর্থিক বছরে ভারতের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দিল একের পর এক আন্তর্জাতিক আর্থিক ও ক্রেডিট রেটিং সংস্থা!

বিশ্ববিখ্যাত সংস্থা এস অ্যান্ড পি, আন্তর্জাতিক রেটিং এজেন্সি ফিচ, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক বা এডিবি এবং প্যারিসভিত্তিক আন্তর্জাতিক থিঙ্কট্যাঙ্ক ওইসিডি— প্রত্যেকেই ভারতের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক রূপরেখা নিয়ে তাদের পুরোনো পূর্বাভাস সংশোধন করে আরও ইতিবাচক সুর প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক মহলের মতে— বিশ্ববাজারে অস্থিরতা থাকলেও ভারতের মজবুত অভ্যন্তরীণ ভোগ ও পরিকাঠামোগত ব্যয়ই দেশীয় অর্থনীতিকে ৭ শতাংশের নিরাপদ ও শক্তিশালী গণ্ডিতে ধরে রাখতে চলেছে।

সবচেয়ে নাটকীয় ও তাক লাগানো পরিবর্তন এনেছে প্যারিসভিত্তিক অর্থনৈতিক সংস্থা ওইসিডি বা অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট। এর আগে চলতি অর্থবর্ষে ভারতের সম্ভাব্য জিডিপি বৃদ্ধির হার যেখানে তারা ৬.৩ শতাংশ বলে অনুমান করেছিল, এবার তা এক ধাক্কায় ৮০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে পাক্কা ৭.১ শতাংশে উন্নীত করেছে! আন্তর্জাতিক এই সংস্থার মতে— দেশের ১৪০ কোটি মানুষের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও গতিশীল বাজারই গোটা বিশ্বের মধ্যে ভারতকে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল বৃহৎ অর্থনীতি হিসেবে শীর্ষে ধরে রাখবে।

একইভাবে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বা এডিবি-ও। তাদের পুরোনো ৬.৬ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস সংশোধন করে এক লাফে ৭ শতাংশে তুলে আনা হয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক রেটিং এজেন্সি ফিচ তাদের মূল্যায়নকে ‘ভেরি স্ট্রং’ স্তর থেকে আরও এক ধাপ ওপরে তুলে ‘ভেরি রোবাস্ট’ স্তরে অন্তর্ভুক্ত করেছে। ফিচের হিসাব অনুযায়ী— চলতি অর্থবর্ষে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধি দাঁড়াতে পারে প্রায় ৬.৯ শতাংশে।

তবে এই নজরকাড়া আর্থিক সমৃদ্ধি ও রকেট গতির মাঝেও মুদ্রাস্ফীতি বা মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কিছুটা সতর্কতার বার্তাও দিয়েছে এস অ্যান্ড পি এবং ফিচের মতো সংস্থাগুলি। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী— বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের ওঠানামার কারণে মূল্যবৃদ্ধির কিছুটা চাপ তৈরি হতে পারে। আর সেই সম্ভাব্য পরিস্থিতি সামাল দিয়ে অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া সুদের হার আরও ০.২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বিবেচনা করতে পারে। তবে সেই সাময়িক সতর্কবার্তাকে ছাপিয়ে একটি বিষয় আজ দিনের আলোর মতো স্পষ্ট— আন্তর্জাতিক প্রতিকূলতাকে হেলায় উড়িয়ে ভারতীয় অর্থনীতির এই দাপুটে দৌড় প্রমাণ করে দিচ্ছে, বিশ্বের দরবারে ভারত আজ সত্যিই এক অপ্রতিরোধ্য অর্থনৈতিক মহাশক্তি!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *