কান্নার একমাত্র ওষুধ হনুমান চালিশা!মাত্র ৫ সেকেন্ডে খুদেকে ঘুম পাড়িয়ে নেটদুনিয়ায় শোরগোল ফেললেন বিদেশিনী !

কোলের শিশুর অকারণ বায়না আর ঘুম ভেঙে কান্নাকাটি— সব মায়ের কাছেই এক পরম পরিচিত দৃশ্য। কান্না থামাতে মা-বাবারা কত রকমের কৌশল নেন, খেলনা থেকে ছড়া— চেষ্টার কোনো খামতি থাকে না। কিন্তু চার মাসের অবোধ সন্তানকে শান্ত করতে এক চিনা বংশোদ্ভূত মার্কিন মা যা করলেন, তা দেখে আজ তাজ্জব গোটা সোশ্যাল মিডিয়া! কোনো আধুনিক নার্সারি রাইম বা পাশ্চাত্য সংগীত নয়, শিশুকে শান্ত করতে এই বিদেশি তরুণীর একমাত্র মোক্ষম দাওয়াই হয়ে উঠেছে সনাতন সংস্কৃতির পবিত্র ‘হনুমান চালিশা’!

সম্প্রতি ফ্লাইদুবাই বিমানের সেই বীর ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর যখন মাঝআকাশে রক্তক্ষয়ী হামলার মুখে পড়েছিলেন, তখনও নিজের মনের জোর ধরে রাখতে তিনি মনে মনে পাঠ করেছিলেন এই হনুমান চালিশা। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছেও সেই গভীর বিশ্বাসের কথা তুলে ধরেছিলেন তিনি। আর এবার প্রাচ্যের সেই আধ্যাত্মিক শক্তির ছোঁয়া দেখা গেল এক মার্কিন পরিবারের ড্রয়িংরুমে।

আমেরিকার বাসিন্দা, চিনা বংশোদ্ভূত তরুণী সারা জেন হো— যিনি সমাজমাধ্যমে অত্যন্ত সক্রিয় এবং একজন সুপরিচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। মাত্র চার মাস আগে এক পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন তিনি। নিজের মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা, শিশুর বেড়ে ওঠা এবং তাদের নানা মুহূর্তের গল্প নিয়মিত ইনস্টাগ্রামে অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন সারা। কিন্তু সম্প্রতি তিনি যে ভিডিও ও অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন, তা এক নিমেষে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সীমানা মুছে দিয়েছে।

সারা জানাচ্ছেন, তাঁর চার মাসের শিশু যখনই ঘুম ভেঙে জেদ ধরে কিংবা মাত্রাতিরিক্ত অস্থির হয়ে কান্নাকাটি শুরু করে, তখনই তিনি ঘরে চালিয়ে দেন হনুমান চালিশা। আর ঘটে যায় এক অবিশ্বাস্য রূপান্তর! বিদেশিনীর দাবি— হনুমান চালিশার পবিত্র ধ্বনি কানে যেতেই মাত্র ৫ সেকেন্ডের মধ্যে শান্ত হয়ে যায় খুদে। আর একটানা দু’মিনিট সেই সুর শুনতে শুনতে পরম শান্তিতে গভীর ঘুমে ঢলে পড়ে সে!

সন্তান যাতে অহেতুক কেঁদে ক্লান্ত না হয়, তার জন্যই এই বিশেষ পন্থা খুঁজে নিয়েছিলেন সারা। এখন প্রতিদিন সকালে নিয়মিত তিনি তাঁর একরত্তিকে এই স্তোত্র শোনান। তাঁর মতে, হিন্দুধর্মের এই প্রাচীন স্তোত্রের ছন্দে ও সুরতরঙ্গে এমন এক অদ্ভুত প্রশান্তি রয়েছে, যা অবোধ শিশুর মস্তিষ্ক ও হৃদয়কে নিমেষেই শান্ত করে দেয়।

শুধু আধ্যাত্মিক সুরেই নয়, সন্তানকে আধুনিক ও বাস্তবসম্মত শিক্ষায় বড় করে তুলতেও বিশেষ নজর দিচ্ছেন এই বিদেশি মা। প্রকৃতির মুক্ত হাওয়ায় শিশুকে সময় কাটাতে দেওয়া থেকে শুরু করে বন্ধু ও প্রতিবেশীদের পোষ্য কুকুরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া— সব কিছুই করছেন অত্যন্ত সচেতনভাবে। তাঁর বিশ্বাস, শৈশব থেকেই প্রকৃতির কাছাকাছি থাকলে এবং প্রাণীদের সংস্পর্শে এলে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং অ্যালার্জির ঝুঁকি কমে।

তবে সমস্ত আধুনিক প্যারেন্টিং টিপসকে ছাপিয়ে সারা জেন হো-র এই হনুমান চালিশার ব্যবহারের ঘটনাই এখন নেটপাড়ার প্রধান চর্চার বিষয়। ভাষার গণ্ডি পেরিয়ে এবং ভৌগোলিক সীমানা ভেঙে ভারতীয় আধ্যাত্মিক দর্শনের এই চিরন্তন শান্তি কীভাবে এক বিদেশি মায়ের ভরসা হয়ে উঠল, তা দেখে মুগ্ধ বিশ্বের কোটি কোটি নেটিজেন!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *