ভোট তো ব্যালটে হয়েছিল, ক’টা জিতলেন? ৪ রাজ্যে শূন্য পাওয়া কংগ্রেসকে এবার সরাসরি খোঁচা প্রধানমন্ত্রীর।

ভোট তো ব্যালটে হয়েছিল, ক’টা জিতলেন? চার রাজ্যের বিধান পরিষদ নির্বাচনে কংগ্রেসের শূন্য ফলাফল সামনে আসতেই এভাবেই হাত শিবিরকে কটাক্ষ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ এবং বিহার—এই চার রাজ্যের মোট ২৮টি বিধান পরিষদ আসনের নির্বাচনে একটিতেও জয় পায়নি কংগ্রেস। ফল প্রকাশের পরই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

এই নির্বাচন অবশ্য সাধারণ বিধানসভা নির্বাচনের মতো নয়। বিধান পরিষদের সংশ্লিষ্ট আসনগুলিতে সীমিত সংখ্যক ভোটার ভোট দেন। মূলত শিক্ষক এবং স্নাতক ভোটারদের একটি অংশ এই নির্বাচনে অংশ নেন। সেই নির্বাচনের ফলেই এবার বড় ধাক্কা খেল কংগ্রেস।

বিশেষ করে কর্নাটকের ফলাফল হাত শিবিরের জন্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। নিজেদের দখলে থাকা এই রাজ্যের চারটি আসনেই জয় পেয়েছে এনডিএ জোট। ফলে কর্নাটকে কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

উত্তরপ্রদেশে মোট ১১টি আসনকে ঘিরে লড়াইয়ে বিজেপি সামগ্রিকভাবে এগিয়ে রয়েছে। তবে সেখানে সমাজবাদী পার্টিও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা দিয়েছে। অর্থাৎ উত্তরপ্রদেশের ছবিটা অন্য তিন রাজ্যের তুলনায় কিছুটা আলাদা হলেও কংগ্রেসের জন্য ফলাফল বদলায়নি।

বিহারেও কংগ্রেসের জন্য পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক নয়। সেখানে প্রশান্ত কিশোরের জন সুরাজ পার্টি বিধান পরিষদে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছে। পাটনার একটি গুরুত্বপূর্ণ আসনেও জয় পেয়েছে দলটি। একই সঙ্গে আগেরবার কংগ্রেসের দখলে থাকা আসন এবার চলে গিয়েছে জন সুরাজের হাতে। ফলে বিহারেও খাতা খুলতে পারেনি কংগ্রেস।

মহারাষ্ট্রেও একই ছবি। সেখানে শরদ পওয়ারের দল আসন জিতলেও কংগ্রেস কোনও আসন নিজেদের দখলে নিতে পারেনি। চার রাজ্যের ফলাফল একসঙ্গে সামনে আসতেই কংগ্রেসের শূন্য ফলাফল রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।

আর ঠিক এই জায়গাতেই কংগ্রেসকে নিশানা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভোট কারচুপি নিয়ে কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরেই সরব। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে একাধিক কর্মসূচি, জনসভা এবং আন্দোলনের মাধ্যমে এই ইস্যুতে রাজনৈতিক চাপ তৈরি করার চেষ্টা করেছে দলটি। বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকেও দেশজুড়ে বিজেপি বিরোধী আবহ তৈরি হওয়ার দাবি করা হয়েছে।

কিন্তু বিধান পরিষদের এই নির্বাচনের ফলাফল সামনে রেখে সেই দাবিকেই পালটা আক্রমণের অস্ত্র করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর, ব্যালটে ভোট হওয়ার পরেও কংগ্রেসের ফলাফল কেন এমন হল?

চার রাজ্যের ২৮টি আসনে কংগ্রেসের শূন্য ফলাফল এখন দলের রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। অন্যদিকে বিজেপি এবং এনডিএ শিবির এই ফলাফলকে নিজেদের পক্ষে তুলে ধরছে। ফলে বিধান পরিষদের এই নির্বাচন শুধু কয়েকটি আসনের ফলাফলেই আটকে থাকছে না, জাতীয় রাজনীতির পরিসরেও নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।

চার রাজ্যে একটিও আসন না পাওয়ার ফলাফলকে ঘিরে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর আক্রমণ এখন রাজনৈতিক তরজাকে আরও তীব্র করেছে। তবে এই ফলাফল শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশলে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই হতে চলেছে বড় প্রশ্ন।

ব্যালটে হওয়া এই নির্বাচনের ফলকে সামনে রেখে ভোটপ্রক্রিয়া নিয়ে কংগ্রেসের অবস্থানকেও পালটা নিশানা করেছে বিজেপি। এবার কংগ্রেস কীভাবে এই ফলাফলের ব্যাখ্যা দেয় এবং আগামী দিনের লড়াইয়ের জন্য কী কৌশল নেয়, নজর থাকবে সেদিকেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *