মোদীর গড় বারাণসীতে পদ্মফুলের লজ্জাজনক হার ! উত্তরপ্রদেশ বিধান পরিষদ নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেল বিজেপি!

সামনেই উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। আর তার ঠিক প্রাক্কালেই রাজ্যের রাজনীতিতে এক বিরাট রাজনৈতিক ধাক্কার মুখোমুখি হলো গেরুয়া শিবির। উত্তরপ্রদেশের বিধান পরিষদ নির্বাচনের যে ফলাফল সামনে এসেছে, তাতে বিরোধীদের মনোবল এক ধাক্কায় বহু গুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নিজের লোকসভা আসন বারাণসীতে মুখ থুবড়ে পড়েছে বিজেপি। বারাণসীর অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষক এবং স্নাতক—উভয় বিধান পরিষদ আসনেই নির্ণায়ক ও বড় ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি । মোদীর খাসতালুকে এমন ভরাডুবি আগামী ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির রাজনৈতিক ভিত কাঁপিয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

উত্তরপ্রদেশের বিধান পরিষদ নির্বাচনে মোট ১১টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। যদিও সামগ্রিক ফলাফলের কিছু অংশে গেরুয়া শিবির কিছুটা সুবিধা ধরে রেখেছে এবং কিছু আসনে জয় পেয়েছে, তবুও বারাণসীর জোড়া আসনে বিজেপির এই লজ্জাজনক পরাজয় শাসক শিবিরের অন্দরে বড়সড় অস্বস্তি তৈরি করেছে। বারাণসীর শিক্ষক বিধান পরিষদ আসনে বিজেপির প্রার্থী প্রমোদ কুমার মিশ্রকে প্রায় ৪,৮৯৮ ভোটের বিরাট ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছেন সমাজবাদী পার্টির প্রার্থী লালবিহারী যাদব। গত নির্বাচনে এই লড়াই বেশ কড়া হলেও, এবারের ব্যবধান বুঝিয়ে দেয় যে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষিত সমাজ তথা শিক্ষকদের একটি বড় অংশ বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। শুধু তাই নয়, বারাণসীর স্নাতক বিধান পরিষদ আসনেও বিজেপির কেদারনাথ সিংয়ের বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জয়ের পথে রয়েছে সমাজবাদী পার্টির আশুতোষ সিনহা। এছাড়া আগ্রার শিক্ষক বিধান পরিষদ আসনেও জয় পেয়েছে এসপি।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বারাণসী লোকসভা কেন্দ্রটি দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হওয়ায় এই অঞ্চলের বিধান পরিষদ নির্বাচনের ফলাফলের দিকে গোটা দেশের নজর থাকে। যদিও বিধান পরিষদ নির্বাচন সরাসরি সাধারণ মানুষের প্রত্যক্ষ ভোটে হয় না এবং এর ভোটার তালিকাভুক্ত শিক্ষক ও স্নাতকদের নিয়ে গঠিত, তবুও স্থানীয় স্তরে সাধারণ মানুষের মনস্তত্ত্ব ও শাসক দলের প্রতি ক্ষোভের একটি বড় প্রতিফলন এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০১৪ বা ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মোদীর জয়ের ব্যবধান এমনিতেই অনেকটা কমেছিল। আর এবার শিক্ষক ও স্নাতক MLC নির্বাচনেও খোদ বারাণসীতে পদ্মফুল ঝরে পড়ার অর্থ হলো, তৃণমূলস্তরে মোদী-যোগীর ডবল ইঞ্জিন সরকারের প্রতি মানুষের মোহভঙ্গ ঘটছে।
সমাজবাদী পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব এই জয়কে ২০২৭ সালের বিধানসভার লড়াইয়ের আগে বিরাট ‘বুস্টার ডোজ’ হিসেবে দেখছেন। এসপি নেতাদের দাবি, সাধারণ মানুষ আর জুমলা বা ফাঁকা প্রতিশ্রুতিতে ভুলছে না। বারাণসী বিভাগের অন্তর্গত চান্দৌলি, গাজিপুর, জৌনপুর, মির্জাপুর, সোনভদ্র, ভাদোহি ও বালিয়া অঞ্চলের এই বড় সাফল্য বুঝিয়ে দিচ্ছে যে

উত্তরপ্রদেশের পূর্বাঞ্চলজুড়ে এবার পরিবর্তনের হাওয়া জোরালো হচ্ছে।
যদিও উত্তরপ্রদেশের অন্য কিছু অঞ্চলে বিজেপি তাদের পুরনো শক্ত ঘাঁটি ধরে রাখতে সফল হয়েছে এবং কিছু আসনে জয়ও পেয়েছে, তবুও বারাণসীর মতো হাইপ্রোফাইল কেন্দ্রে বিজেপির এই বিপর্যয় তাদের অহংকার এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার দিকেই আঙুল তুলছে। আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে এই ফলাফল শাসক শিবিরের ঘুম উড়িয়ে দেওয়ার জন্য একশো শতাংশ যথেষ্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *