রাজ্যের আবাস যোজনা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। আর এবার সেই অভিযোগের তদন্তে সামনে এসেছে প্রায় ১২ হাজার ভুয়ো উপভোক্তার নাম। প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, তালিকায় এমন বহু মানুষের নাম উঠে এসেছে, যাঁরা আদৌ সরকারি বাড়ি পাওয়ার যোগ্য নন। অথচ নিয়মের বাইরে গিয়ে তাঁরা আবাস যোজনার সুবিধা নিয়েছেন। ইতিমধ্যেই প্রায় এক হাজার জনের কাছ থেকে সরকারি টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু বাকি প্রায় ১১ হাজার জনের কাছ থেকেও টাকা ফেরত নিতে চাইছে রাজ্য সরকার। এই কাজের জন্য প্রশাসনকে আগামী ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত না দিলে সংশ্লিষ্ট উপভোক্তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে হবে।
কিন্তু কীভাবে এত বিপুল সংখ্যক ভুয়ো উপভোক্তার নাম সরকারি তালিকায় ঢুকে পড়ল? আবাস যোজনার তালিকা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছিল। কিন্তু সরেজমিনে তদন্ত করতে গিয়ে দেখা যায়, বহু আবেদনকারী প্রকৃতপক্ষে অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও সুবিধাভোগীর তালিকায় নিজেদের নাম তুলেছেন। মন্ত্রী আরও আশ্বাস দিয়েছেন, গোটা তালিকা নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে। প্রতিটি আবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হবে।যাঁরা অযোগ্য, কিংবা বেআইনিভাবে তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন, তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হবে।
এখানেই শেষ নয়! পঞ্চায়েত দফতরের কাজকর্ম নিয়েও এবার কড়া অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের পর্যালোচনা বৈঠকে নির্মাণ সহায়কদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। কাজে গাফিলতি, দায়িত্ব পালনে অবহেলা কিংবা ঠিকমতো কাজ না করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট নির্মাণ সহায়কদের বেতন বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ভিবি জি-রামজি প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুর, হাওড়া এবং মুর্শিদাবাদের মতো কয়েকটি জেলায় প্রকল্পের কাজ প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে বিডিওদের জন্যও ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক না হলে সংশ্লিষ্ট বিডিওকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে আবাস যোজনা থেকে শুরু করে পঞ্চায়েতের উন্নয়নমূলক প্রকল্প প্রতিটি ক্ষেত্রেই অনিয়ম এবং কাজের গাফিলতি রুখতে কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিচ্ছে রাজ্য সরকার।