চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত বেকারদের পাশে সরকার!জানুয়ারি থেকে চালু হচ্ছে নয়া ‘ভরসা’ প্রকল্প !

রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে এবং কর্মসংস্থানের প্রশ্নে এক ঐতিহাসিক দিশা দেখাতে আরামবাগের জনসভা থেকে জোড়া মেগা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী! একদিকে যেমন মেধার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ১ লক্ষ স্থায়ী সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার স্পষ্ট ডেডলাইন বেঁধে দিলেন তিনি, তেমনই অন্য কোনো সরকারি প্রকল্পের আওতায় না থাকা বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য জানুয়ারি থেকেই চালু হতে চলেছে এক বৈপ্লবিক উদ্যোগ— যার নাম রাখা হয়েছে ‘ভরসা’ প্রকল্প। চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত গ্র্যাজুয়েট ও নন-গ্র্যাজুয়েট যুবক-যুবতীদের পাশে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকার তাঁদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে বলে প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে প্রতিশ্রুতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

আরামবাগের এই জনসমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বিগত কয়েক মাসের নিয়োগ প্রক্রিয়ার খতিয়ান সবিস্তারে তুলে ধরেন। তিনি মনে করিয়ে দেন— মহালয়ার ঠিক পরের দিন নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে একযোগে ১১ হাজার পুলিশ কর্মীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৩ হাজার মহিলা কনস্টেবল রয়েছেন। এছাড়াও কো-অপারেটিভ ইন্সপেক্টর এবং কলকাতা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। পিএসসি, এসএসসি এবং পিআরবি-র মাধ্যমে শিক্ষক সহ মোট ৬৩ হাজার সরকারি পদে নিয়োগের চূড়ান্ত অনুমোদন সম্পন্ন হয়েছে।

এরপরই মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন— “২০২৬ সালের ৯ মে আমি শপথ নিয়েছিলাম। কথা দিয়ে যাচ্ছি, ২০২৭ সালের ৮ মে-র মধ্যে যোগ্যতা অনুযায়ী ১ লক্ষ যুবকের হাতে স্থায়ী সরকারি চাকরি তুলে দেবে এই সরকার।” আর যাঁরা এখনও চাকরি পাননি, তাঁদের জন্য নয়া প্রকল্পের ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন— “আমার গ্র্যাজুয়েট ও নন-গ্র্যাজুয়েট ভাই-বোনদের জন্য আমরা আনছি ‘ভরসা’ স্কিম। আগামী ২৩ তারিখের ক্যাবিনেট বৈঠকেই এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হবে। আর জানুয়ারি মাস থেকেই যে বেকার যুবক-যুবতীরা অন্য কোনো সরকারি সুবিধার আওতায় নেই, তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত এই সরকার নিয়মিত আর্থিক সহায়তা জুগিয়ে যাবে।”

শুধু কর্মসংস্থানই নয়, সাধারণ মানুষের সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকারের একগুচ্ছ সংস্কারের খতিয়ান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। আইসিডিএস-এর খাবারের বরাদ্দ ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা, প্রসূতি মায়েদের ক্ষেত্রে ১২ থেকে ১৪ টাকা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিলের বরাদ্দ ৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা এবং সরকারি হাসপাতালের পথ্য বাবদ বরাদ্দ এক লাফে ৫৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১০ টাকা করার সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। একই সাথে আরামবাগ সহ রাজ্যের ১৩টি মেডিকেল কলেজের পরিকাঠামো উন্নয়ন, প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর মুফত বিজলি যোজনা এবং আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরের সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

উৎসবের মরশুমের খতিয়ান দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান— এ বছর রেকর্ড ৫৮ হাজার পুজো কমিটিকে ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা এবং শতভাগ বিদ্যুৎ ও লাইসেন্স ফি মুকুব করেছে সরকার। রিষড়া, চন্দননগর বা পাণ্ডুয়ার অতীতের অশান্তির স্মৃতি মুছে ফেলে এবার প্রতিটি বিসর্জন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। একই সাথে চন্দননগরের ঐতিহ্যবাহী জগদ্ধাত্রী পুজোকে ‘রাজ্য মেলা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ৫ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ ঘোষণা করেছেন তিনি। আসন্ন ছটপুজো উপলক্ষে মন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ও অগ্নিমিত্রা পালের নেতৃত্বে ছটঘাটগুলির প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সবশেষে উত্তর কলকাতার চোরবাগান দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন— মানুষের ভুলে সেই দুর্ঘটনা ঘটলেও স্বজনহারা পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকার গোঘাটের নিহত পরিবারের হাতে ২৫ লক্ষ টাকা, কেন্দ্রের ২ লক্ষ টাকা এবং একটি স্থায়ী গ্রুপ-ডি সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছে।

নিয়োগের নির্দিষ্ট সময়সীমা আর চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত ‘ভরসা’ প্রকল্পের মাধ্যমে বেকারদের পাশে দাঁড়ানোর এই দ্বিমুখী পরিকল্পনা— বদলের বাংলায় যুব সমাজের আর্থ-সামাজিক সমীকরণে যে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *