রাজ্য রাজনীতিতে ফের একবার চরম উত্তেজনার পারদ চড়ল ডায়মন্ড হারবার কাণ্ডকে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি ডায়মন্ড হারবারের সরিষার একটি তৃণমূল কার্যালয় থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা নগদ উদ্ধার করেছে বলে দাবি করে পুলিশ। পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, হেফাজতে থাকা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে জেরা করেই নাকি এই টাকার হদিশ মিলেছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠক করে এই পুলিশি দাবিকে সরাসরি এক ফুৎকারে উড়িয়ে দিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, তৃণমূল কার্যালয় থেকে টাকা উদ্ধারের এই পুরো ঘটনাটি আসলে পুলিশ প্রশাসনের সাজানো একটি অত্যন্ত ‘দুর্বল চিত্রনাট্য’।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশকে কাঠগড়ায় তুলে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। তাঁর স্পষ্ট দাবি, ডায়মন্ড হারবারের আইসি নিজে একটি কালো এসইউভি-৩০০ গাড়ি করে রাত্রিবেলা ওই তৃণমূল কার্যালয়ে গিয়ে টাকা রেখে এসেছিলেন। শুধু মুখেই অভিযোগ নয়, এই ঘটনার নিখুঁত সিসিটিভি ফুটেজ তাঁর কাছে সুরক্ষিত রয়েছে বলেও হুঙ্কার দিয়েছেন অভিষেক। প্রয়োজনে আদালতের ফ্লোরে সেই অকাট্য প্রমাণ পেশ করা হবে বলে জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং চরম মানসিক চাপ সৃষ্টি করে সুমিত রায়কে দিয়ে জোর করে সিজার লিস্টে সই করিয়েছে। এই বেআইনি পুলিশি হয়রানির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে সুমিতের স্ত্রীও নির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানান অভিষেক।
যে তৃণমূল কার্যালয় থেকে এই নগদ টাকা উদ্ধারের নাটক মঞ্চস্থ করা হয়েছিল, সেটি মূলত মগরাহাট পশ্চিমের বিধায়ক শামিম আহমেদের। যদিও শামিম সম্প্রতি দলবদল করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে ভিড়েছিলেন, তবে এদিন তিনি সরাসরি অভিষেকের পাশেই অবস্থান নেন। শামিমকেও পুলিশি হেফাজতে রেখে কীভাবে মিথ্যা বয়ান ও স্বীকারোক্তি দেওয়ার জন্য লাগাতার চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দেন অভিষেক। কবে, ঠিক কোন নম্বর থেকে শামিমের কাছে ফোন এসেছিল এবং তাঁকে কবে ডায়মন্ড হারবারের পুলিশ সুপার বা এসপি অফিসে ডেকে পাঠানো হয়েছিল—সেই সমস্ত স্পর্শকাতর তথ্য ও বিবরণও জনসমক্ষে তুলে ধরেন তিনি। পুলিশ প্রশাসনকে সরাসরি ও কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে অভিষেক বলেন, “মনে রাখবেন, কেন্দ্রের নাম ডায়মন্ড হারবার, আর এই মাটির সাংসদের নাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।”
এদিন বিরোধী শিবির ও দলবদলকারী ঋত শিবিরের বিরুদ্ধেও তীব্র আক্রমণ শানান অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, যেভাবে বলপূর্বক ও জোর করে বিধায়কদের ডেকে এনে সাদা কাগজে বা হলফনামায় সই করানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অসাংবিধানিক। এমনকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তিনি দাবি করেন, এই ধরনের অনৈতিক কাজের পরিণতি হিসেবে তাঁকে আজীবন জেলেই কাটাতে হবে। ঘটনাচক্রে, ঠিক একই দিনে তৃণমূলের আসল নাম ও দলীয় প্রতীকের মালিকানা নিয়ে নির্বাচন কমিশনে যাবতীয় আইনি নথি জমা দিয়েছে মূল দল। সব মিলিয়ে, ডায়মন্ড হারবারে টাকা উদ্ধারের এই পুলিশি তৎপরতা এবং অভিষেকের বিস্ফোরক পাল্টা আক্রমণ রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দানকে ফের উত্তপ্ত করে তুলেছে।