মাত্র ৫০ হাজারে মিলবে সাড়ে ৫ লাখের নিজস্ব ২-বিএইচকে ফ্ল্যাট !ক্ষমতায় এসেই বিরাট উদ্যোগ নতুন ডাবল ইঞ্জিন সরকারের!

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে জরাজীর্ণ কোয়ার্টার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ কিংবা ভাড়াবাড়ির অনিশ্চয়তায় দিন কাটানো বাংলার চটকল শ্রমিকদের জীবনে এবার নেমে আসতে চলেছে এক সোনালী সকাল! অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মেহনতি পরিবারগুলির নিজস্ব এক চিলতে পাকা ছাদের স্বপ্নপূরণে শুরু হলো এক ঐতিহাসিক আবাসন বিপ্লব। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-আরবান ২.০ বা পিএমএওয়াই-ইউ ২.০-এর ‘অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং ইন পার্টনারশিপ’ ধারার আওতায় চালু হয়েছে এই অভিনব প্রকল্প। যার সবচেয়ে বড় চমক— মাত্র ৫০ হাজার টাকার এককালীন বিনিয়োগেই একজন যোগ্য চটকল শ্রমিক পরিবার পেয়ে যাবেন প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার একটি আধুনিক, স্বয়ংসম্পূর্ণ নিজস্ব ২-বিএইচকে ফ্ল্যাটের আজীবন মালিকানা!

প্রাথমিক পর্যায়ে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের চটকল অধ্যুষিত দুটি প্রধান জেলা— উত্তর ২৪ পরগনা এবং হুগলির বুকে এই মেগা আবাসন নির্মাণের কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হচ্ছে। প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি আধুনিক ফ্ল্যাট নির্মাণে মোট খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। আর এই বিপুল ব্যয়ের ৯০ শতাংশেরও বেশি বহন করবে কেন্দ্র, রাজ্য ও শ্রম দফতর। আর্থিক হিসাবে কেন্দ্রীয় সরকার দিচ্ছে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, রাজ্য সরকারের অংশ ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা এবং শ্রম দফতর অনুদান দিচ্ছে ৭১ হাজার টাকা। ফলে সাড়ে ৫ লাখি ফ্ল্যাটের জন্য সুবিধাভোগী দরিদ্র শ্রমিককে নিজের পকেট থেকে দিতে হবে মাত্র ৫০ হাজার টাকা!

নির্মাণশৈলীর দিক থেকেও কোনো খামতি রাখা হচ্ছে না। সম্পূর্ণ আধুনিক ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের উপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে জি-প্লাস-থ্রি অর্থাৎ চারতলা বিশিষ্ট এই আবাসন ভবনগুলি। প্রতিটি তলায় ৪টি করে একটি ভবনে থাকবে মোট ১৬টি ফ্ল্যাট। ৩২০ থেকে সর্বোচ্চ ৪৮৫ বর্গফুট কার্পেট এরিয়ার মধ্যে সাজানো থাকবে দুটি বেডরুম, একটি রান্নাঘর এবং একটি স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার।

তবে এই প্রকল্পের সুফল যাতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা প্রভাবশালীর পকেটে না যায়, সেজন্য বেঁধে দেওয়া হয়েছে কঠোর ও স্বচ্ছ যোগ্যতার মাপকাঠি, —-

প্রথমত, আবেদনকারীকে অবশ্যই একজন সক্রিয় চটকল শ্রমিক হতে হবে এবং বর্তমানে জরাজীর্ণ শ্রমিক কোয়ার্টার বা ভাড়াবাড়িতে বসবাসকারী হতে হবে।
* দ্বিতীয়ত, পরিবারের মোট বার্ষিক আয় হতে হবে ৩ লক্ষ টাকার মধ্যে, অর্থাৎ অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণি বা ইডব্লিউএস-ভুক্ত হতে হবে।
* তৃতীয়ত, আবেদনকারী বা তাঁর পরিবারের কোনো সদস্যের নামে দেশের কোথাও কোনো নিজস্ব পাকা বাড়ি বা ফ্ল্যাট থাকা চলবে না।
* চতুর্থত, বিগত ২০ বছরের মধ্যে সরকারি কোনো আবাসন প্রকল্প থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে থাকলে তিনি এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন না।
* এছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সদস্য, প্রবীণ নাগরিক, বিধবা ও একক মহিলাদের ফ্ল্যাট বরাদ্দে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং শারীরিক সুবিধার কথা মাথায় রেখে তাঁদের জন্য ভবনের নিচের তলার ফ্ল্যাট নির্দিষ্ট থাকবে।

আবেদন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চটকল কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় পুরসভা এবং শ্রম দফতর যৌথভাবে কাজ করবে। আগ্রহী শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় নথি— যেমন কর্মী পরিচয়পত্র, ইএসআই কার্ড, আয়ের শংসাপত্র ও উপযুক্ত সরকারি নথিপত্র সহযোগে নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করে আবেদন জমা দিতে হবে। প্রতিটি আবেদনপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ ফিল্ড ভেরিফিকেশনের পরই চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করে সরাসরি শ্রমিকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে চাবি। মেহনতের সঠিক মর্যাদা দিয়ে প্রান্তিক শ্রমজীবী পরিবারগুলির মুখে স্থায়ী হাসি ফোটানোর এই উদ্যোগ বাংলার শ্রমিক রাজনীতিতে নিঃসন্দেহে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করল!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *