2029 লোকসভা নির্বাচনে নারীদের আসন সংরক্ষণ আইন কার্যকর হবে। মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত হতে চলেছে লোকসভার এক-তৃতীয়াংশ আসন। অর্থাৎ, মোট ২৭২টি আসন থাকবে শুধুমাত্র নারীদের জন্য। আর এই সিদ্ধান্তের দিকেই বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। সূত্রের খবর, নারী সংরক্ষণ আইন কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী বিলে ইতিমধ্যেই অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র। লক্ষ্য—২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকেই এই আইন কার্যকর করা। এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সংসদের বিশেষ অধিবেশনেই এই বিল নিয়ে আলোচনা হবে এবং সেটি পাস করানোর চেষ্টা করা হবে। আগামী ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল—এই তিনদিনের বিশেষ অধিবেশনেই হতে পারে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত।
আসলে, ২০২৩ সালেই নারী সংরক্ষণের পথে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। সংবিধানের ১০৬তম সংশোধনীর মাধ্যমে ঠিক হয়েছিল, লোকসভা ও বিধানসভায় এক-তৃতীয়াংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। কিন্তু সেই আইন কার্যকর করতে গেলে অপেক্ষা করতে হত ২০২৭ সালের জনগণনা এবং পরবর্তী সীমানা পুনর্বিন্যাসের জন্য। অর্থাৎ বাস্তবে তা কার্যকর হতে পারত ২০৩৪ সালের আগে নয়। কিন্তু এবার সেই দীর্ঘ অপেক্ষা এড়াতেই নতুন পরিকল্পনা। সূত্রের দাবি, ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতেই আসন পুনর্বিন্যাস করা হতে পারে। এর ফলে লোকসভার মোট আসন সংখ্যাও বাড়তে পারে উল্লেখযোগ্যভাবে।
বর্তমানে লোকসভায় আসন সংখ্যা ৫৪৩। তবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী তা বেড়ে হতে পারে ৮১৬। আর সেই বাড়তি আসনের মধ্যেই এক-তৃতীয়াংশ—অর্থাৎ ২৭২টি—মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের রাজনীতিতে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়বে নজিরবিহীনভাবে। এখন যেখানে সংসদে মহিলাদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম, সেখানে এই আইন কার্যকর হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে নারীদের উপস্থিতি অনেক বেশি দৃশ্যমান হবে। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোরও। শাসক দল যেখানে এই পদক্ষেপকে নারী ক্ষমতায়নের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত বলে দাবি করছে, সেখানে বিরোধীদের একাংশের মতে—এটি আসলে রাজনৈতিক কৌশল।
তাদের বক্তব্য, ভোটের আগে মহিলাদের আকৃষ্ট করতেই এই পদক্ষেপ। যদিও কেন্দ্রের দাবি, এটি শুধুমাত্র ভোটের রাজনীতি নয়—বরং দীর্ঘদিনের দাবির বাস্তবায়ন। আরও একটি বড় প্রশ্ন—কীভাবে হবে আসন বণ্টন? কোন কোন আসন সংরক্ষিত হবে, কীভাবে রোটেশন হবে—এই সমস্ত বিষয়ই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণ। এদিকে, এই বিল সংসদে পাস হলে ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোয় এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন আসবে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, শুধু সংখ্যার হিসেব নয়—এটি এক বড় সামাজিক বার্তাও। নারীরা শুধুই ভোটার নন, বরং নীতি নির্ধারণের কেন্দ্রে তাঁদের অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী হতে চলেছে। সব মিলিয়ে, ২০২৯-এর নির্বাচন শুধু আরেকটি সাধারণ নির্বাচন নাও হতে পারে, বরং হতে পারে ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। এখন নজর সংসদের বিশেষ অধিবেশনের দিকে, সত্যিই কি পাস হবে এই বিল? আর হলে, ২০২৯-এ কেমন দেখাবে দেশের নতুন রাজনৈতিক মানচিত্র? সেই উত্তর লুকিয়ে সময়ের গর্ভেই।
