প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ! আর সেই ক্ষোভের আগুনে এবার জ্বলল দুবরাজপুর। ক্ষুব্ধ জনতার রোষের মুখে তৃণমূল কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। চলল চটিপেটা, করা হলো অর্ধনগ্ন! হ্যাঁ, সম্প্রতি এমনই এক ঘটনার সাক্ষী থাকলো বীরভূমের দুবরাজপুর পুরসভা এলাকা। অভিযোগের তির দুবরাজপুর পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর ভাস্কর রুজ এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গরিব মানুষের মাথার ছাদ অর্থাৎ আবাস যোজনার ফাইল পাস করিয়ে দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ১৫ হাজার থেকে শুরু করে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে। সেই ক্ষোভ অবশ্য দীর্ঘদিন ধরে ধিকিধিকি জ্বলছিল, যা বৃহস্পতিবার দুপুরে কার্যত বিস্ফোরণের আকার নেয়।
এদিন বিক্ষুব্ধ মানুষজন কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে সরাসরি কাউন্সিলর ভাস্কর রুজের বাড়ির সামনে গিয়ে চড়াও হন। মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। বেগতিক বুঝে এবং জনতার রুদ্ররূপ দেখে কাউন্সিলর তড়িঘড়ি বাড়ির ভেতরে ঢুকে আত্মগোপন করেন বলে অভিযোগ। কিন্তু তাতেও ক্ষোভ কমেনি! বরং, কাউন্সিলরকে না পেয়ে জনতার রোষ গিয়ে পড়ে তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী তথা স্থানীয় তৃণমূল নেতা ধনঞ্জয় গড়াই ওরফে ধনু মাস্টারের ওপর।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ধনু মাস্টারই এলাকায় কাটমানি তোলার মূল কাজটা করতেন। এরপর উত্তেজিত জনতা তাকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। পরিস্থিতি দ্রুত হাতের বাইরে চলে যায়। এমনকি, ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ ধনু মাস্টারকে অর্ধনগ্ন করে জুতোপেটা ও গণপিটুনি দেয়। আর এই ঘটনায় স্থানীয় মানুষের বক্তব্য অত্যন্ত স্পষ্ট, বহু গরিব পরিবার নিজেদের শেষ সম্বল বিক্রি করে, ধার-দেনা করে এই কাটমানির টাকা তুলে দিয়েছিলেন ঘর পাওয়ার আশায়। কিন্তু টাকা নিয়েও মেলেনি ঘর। এই চরম প্রতারণা আর সহ্য করতে পারেননি তারা। অবশেষে এই সিদ্ধান্ত! এদিকে এই খবর কানে যেতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। উত্তেজিত জনতাকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে তারা। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে কিনা, তা স্পষ্ট নয়। এমনকি জেলা প্রশাসন বা শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফ থেকেও এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
যদিও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বীরভূমের রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীরা কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছে। বিজেপির দাবি, ‘তৃণমূলের রন্ধ্রে রন্ধ্রে কাটমানি সংস্কৃতি ঢুকে ছিল। কেউ কেউ আবার দাবি করেছেন, গরিবের টাকা লুঠ করাই ছিল ওই দলের কাজ। যদিও তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব এই অভিযোগ নিয়ে এখনও মুখ খোলেনি। কিন্তু প্রশ্নটা রাজনীতির ঊর্ধ্বে! প্রশ্ন হলো, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে কেন গরিব মানুষকে ঘটি-বাটি বিক্রি করে ঘুষ দিতে হবে? দুবরাজপুরের এই ঘটনা কি বাকি জেলাগুলোর জন্য বড় কোনো সতর্কবার্তা? আপনার কী মনে হয়? জানান কমেন্টে!
