কথায় কথায় নিজেদের ‘জিরো টলারেন্স’ আর ‘সুশাসনের’ বড় বড় ডঙ্কা বাজানো স্বৈরাচারী বিজেপি সরকারের আসফালনের বেলুন এবার চুরমার হয়ে ফেটে গেল! উত্তরপ্রদেশের শ্রাবস্তী বিমানবন্দর নির্মাণ ঘিরে সামনে এল এক নজিরবিহীন ও জঘন্য দুর্নীতির কেলেঙ্কারি। খাস যোগী আদিত্যনাথের ডাবল ইঞ্জিন সরকারের আমলে এবার কেন্দ্রের উচ্চাভিলাষী ‘উড়ান যোজনা’-র অধীনে নির্মিত বিমানবন্দরে অনায়াসে সাবাড় করে দেওয়া হলো সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের প্রায় ৩৪১ কোটি টাকা!
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, বিজেপির এই নগ্ন ও চরম দুর্নীতির পর্দাফাঁস করেছে অন্য কেউ নয়, খোদ বিজেপিরই নিজেদের ঘরের লোক! বিশিষ্ট বিজেপি নেতা ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংয়ের পুত্র তথা বিজেপি বিধায়ক প্রতীক ভূষণ সিং সরাসরি নিজের দলের দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে দুই পাতার এক কড়া চিঠি লিখে পুরো ভণ্ডামির হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় সরকারের পাঠানো বিপুল অর্থে উত্তরপ্রদেশ রাজ্য নির্মাণ কর্পোরেশন এই বিমানবন্দরটির নির্মাণ ও সংস্কারের দায়িত্ব পেয়েছিল। কিন্তু আইআইটি রুরকির নিরপেক্ষ থার্ড পার্টি স্ট্রাকচরাল অডিট রিপোর্ট সামনে আসতেই যোগী সরকারের জঘন্য দুর্নীতির কদর্য মুখটা পুরোপুরি উন্মোচিত হয়ে যায়। অডিট রিপোর্টে স্পষ্ট দেখা যায়, বিমানবন্দর তৈরিতে সরকারি কারিগরি নির্দেশিকা ও সুরক্ষার সমস্ত মানদণ্ডকে বুট উঁচিয়ে মাড়িয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে অত্যন্ত নিম্নমানের ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে।
বিধায়ক প্রতীক ভূষণ সিংয়ের প্রতিনিধি দল সরেজমিন পরিদর্শনের পর স্পষ্ট দেখতে পেয়েছে যে, রাজ্য নির্মাণ কর্পোরেশনের অসৎ কর্মকর্তা ও তোলাবাজ ঠিকাদারদের নোংরা যোগসাজশে কোটি কোটি টাকা স্রেফ আত্মসাৎ ও লুটপাট করা হয়েছে! নিজের পকেট ভরাতে গিয়ে প্লেনে চড়া সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা ও জীবনকে সরাসরি চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেনি এই নির্বোধ ও অমানবিক প্রশাসন। এই ঘটনাতেই পুরো দুর্নীতি চক্রের নিরপেক্ষ ও উচ্চ-পর্যায়ের তদন্তের পাশাপাশি দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে।
এদিকে, যোগী সরকারের এই পাহাড়প্রমাণ কেলেঙ্কারি সামনে আসতেই আসরে নেমে বিজেপিকে চাঁচাছোলা ভাষায় ধুয়ে দিয়েছে বিরোধী সমাজবাদী পার্টি (এসপি)। শ্রাবস্তীর এসপি সাংসদ রাম শিরোমণি বর্মা কড়া কটাক্ষ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, “বিজেপি সরকার আসলে স্রেফ কমিশন খাওয়ার সরকার! তবে নিজেদের দলের বিধায়ক যেভাবে এই জঘন্য কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। যদিও আমরা জানি এই দুর্নীতিবাজ বিজেপি সরকার কখনোই নিজেদের অসৎ লোকদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয় না।”
উন্নয়নের ফাঁপা বেলুন ফুলিয়ে কীভাবে জনগণের রক্ত জল করা ৩৪১ কোটি টাকা পকেটে পোরা হয়েছে, শ্রাবস্তী বিমানবন্দর কেলেঙ্কারি তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। ক্ষমতার অলিন্দে বসে তোলাবাজি আর কমিশনখোরির এই জঘন্য রাজনীতির জবাব সাধারণ মানুষ সময়মতো কড়ায়-গণ্ডায় বুঝিয়ে দেবে!
