কংগ্রেসের হাত ধরে ঝালদা-২ পঞ্চায়েত সমিতিতে তৃণমূলের বিরাট জয়! ঝালদায় মুখ থুবড়ে পড়ল পদ্মশিবির!

ঝালদার এই ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে, বঙ্গরাজনীতিতে চক্রান্ত করে টেকা যায় না! বিজেপির সমস্ত কুৎসিত রণকৌশলকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ঝালদা-২ পঞ্চায়েত সমিতিতে দুর্দান্ত জয় ছিনিয়ে নিল তৃণমূল কংগ্রেস। কংগ্রেসের সমর্থনে এই সমিতির নতুন সভাপতি নির্বাচিত হলেন তৃণমূলের পুষ্পরানী মাহাতো। আর এর মাধ্যমেই আরও একবার পরিষ্কার হয়ে গেল যে, জোর করে পুলিশি বা কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভয় দেখিয়ে বাংলা দখল করার যে দিবাস্বপ্ন বিজেপি দেখছে, তা এক্কেবারে কর্পূরের মতো উবে গেছে!

ঝালদা-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নির্বাচনে মোট ২৬ জন সদস্যই উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে কংগ্রেসের ৬ জন সদস্যের সরাসরি সমর্থনে পুষ্পরানীদেবীর মোট ভোট গিয়ে দাঁড়ায় ১৪টিতে। গণতান্ত্রিক সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিখুঁত অঙ্কেই সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। নির্বাচন শেষ হতেই কোটশিলা বাজারে নেমে পড়ে তৃণমূল ও কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা। বিজয়ের আনন্দে চলে যৌথ মিছিল। তবে গোটা এলাকায় যাতে বিজেপি কোনো অশান্তি পাকাতে না পারে, তার জন্য কড়া পুলিশি নজরদারি ছিল। স্বয়ং ঝালদার এসডিপিও গৌরব ঘোষ মাঠে নেমে নিরাপত্তার তদারকি করেন।

কিন্তু এই জয়ের নেপথ্যে রয়েছে এক ভয়ঙ্কর রাজনৈতিক কুকীর্তি। গত আগস্ট মাসে এই পঞ্চায়েত সমিতির তৎকালীন তৃণমূল সভাপতি দীপক সিংহ পদত্যাগ করার পরই আসরে নামে বিজেপি। তক্কে তক্কে থাকা গেরুয়া নেতারা মরিয়া হয়ে ওঠে এই সমিতি দখল করতে। তৃণমূল নেতাদের একের পর এক ভয়ভীতি দেখানো থেকে শুরু করে চরম হেনস্থা করা হয়। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে, পুলিশ ও বিজেপির রক্তচক্ষুর জেরে তৃণমূলের জেলা পরিষদ সদস্য অর্জুন মাহাতো এবং কংগ্রেসের জেলা সভাপতি ফনিভূষণ কুমার সহ অধিকাংশ সদস্যকে বাধ্য হয়ে ঝাড়খণ্ডে গিয়ে আত্মগোপন করতে হয়েছিল!

বিজেপি ভেবেছিল গুন্ডামি করে, পুলিশকে কাজে লাগিয়ে গণতন্ত্রের টুঁটি টিপে ধরে তারা বিরোধীশূন্য করে দেবে! কিন্তু বাংলার মাটি অত সহজে ছেড়ে দেওয়ার নয়। বাধ্য হয়েই উচ্চ আদালতের দারস্থ হতে হয় জনপ্রতিনিধিদের। আদালতের কড়া নির্দেশ এবং আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমেই সমস্ত নোংরা চক্রান্ত ধূলিসাৎ হয়ে যায়। আদালতের রায় মাথা পেতে মেনে নিয়ে আজ কংগ্রেসের হাত ধরে ঝালদার মাটিতে জয়ের গেরুয়া অহংকারকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিল জোড়াফুল শিবির।

বিজেপি মানেই কুৎসা, ভয় আর ষড়যন্ত্রের রাজনীতি। কিন্তু ঝালদার এই ঘটনা প্রমাণ করে দিল, পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতা দখল করার এই অপচেষ্টা বাংলার মানুষ এক লহমায় আস্তাকুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। পুলিশ-প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে যারা এত দিন দাদাগিরি ফলানোর চেষ্টা করছিল, আজকের এই ফলাফলে তাদের গাল লাল হয়ে যাওয়ার কথা। ঝালদার এই জয় আসলে গণতন্ত্রের জয়, আর স্বৈরাচারী বিজেপির মুখে এক চরম চপেটাঘাত!

ঝালদা-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতার অঙ্কে তৃণমূলের জয় এবং কংগ্রেসের সমর্থন—এই ফলাফলকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণ সামনে এসেছে। এবার এই জয়ের পর ঝালদা-২ পঞ্চায়েত সমিতির নতুন বোর্ড কীভাবে কাজ করে এবং তৃণমূল-কংগ্রেসের এই সমীকরণ আগামী দিনে কতটা টিকে থাকে, নজর থাকবে সেদিকেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *