“নতুন সরকার, নতুন এনার্জি, এই সরকারের হাত ধরেই আমাদের এগোতে হবে!”সুরুচি সংঘে দাঁড়িয়ে বিরাট বার্তা দিলেন সুপারস্টার জিত !

২০২৬-এর ঐতিহাসিক পালাবদলের পর বাংলায় এটাই প্রথম শারদোৎসব। ফলে মণ্ডপের থিম, আলোর রোশনাই কিংবা প্রতিমার কারুকার্যের পাশাপাশি এবার উৎসবের প্রতিটি আড্ডায় কেন্দ্রবিন্দুতে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহ। নতুন সরকারের জমানায় প্রথম দুর্গাপুজো ঘিরে কলকাতা থেকে জেলা— সর্বত্রই যখন বাঁধভাঙা উদ্দীপনা, ঠিক তখনই রাজ্য রাজনীতি ও টলিপাড়ার অলিন্দে এক বিরাট আলোড়ন ফেলে দিলেন টলিউডের মেগাস্টার জিৎ! বুধবার কলকাতার অন্যতম হেভিওয়েট পুজো সুরুচি সংঘের মণ্ডপে দাঁড়িয়ে নতুন সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করলেন তিনি। অত্যন্ত স্পষ্ট ও ইতিবাচক ভাষায় অভিনেতা জানিয়ে দিলেন— “নতুন সরকার এসেছে, নতুন এনার্জি এসেছে; আর আগামী দিনে এই সরকারের হাত ধরেই আমাদের সকলকে এগিয়ে যেতে হবে!”

বুধবার নিজের অতি পরিচিত পাড়ার পুজো সুরুচি সংঘের মণ্ডপে ঠাকুর দেখতে উপস্থিত হয়েছিলেন জিৎ। প্রতি বছরই এই পুজোয় আসেন তিনি, কিন্তু এবারের সফর ছিল একেবারেই অন্যরকম। উৎসবের আনন্দে সামিল হয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলে স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে সরকার বদলের প্রসঙ্গ। হাসিমুখে অভিনেতা বলেন— “পুজোয় এসেছি মায়ের দর্শন করতে, আনন্দ করতে। পাড়ার পুজো, আগেও এসেছি, এবারও এলাম। তবে এবারের বিশেষত্ব হলো— নতুন দল, নতুন সরকার, নতুন উদ্যম আর নতুন এনার্জি চারিদিকে দেখতে পাচ্ছি। আর সত্যি কথা বলতে, আগামী দিনে এই সরকারের হাত ধরেই কিন্তু আমাদের সকলকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।” টলিপাড়ার অন্যতম শীর্ষ তারকার মুখ থেকে নতুন সরকারের প্রতি এমন খোলামেলা সমর্থন ও আস্থার বার্তা স্বভাবতই রাজনৈতিক মহলে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তবে কেবল কলকাতা নয়, তিলোত্তমায় ঠাকুর দর্শন শুরুর ঠিক আগের দিনই পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতে এক বিশেষ পুজো উদ্বোধনে যোগ দিয়েছিলেন জিৎ। মঙ্গলবার কাঁথির বিখ্যাত ‘নান্দনিক ক্লাব’-এর ৪৭তম বর্ষের দুর্গাপুজোর শুভ উদ্বোধন করেন তিনি। উল্লেখ্য, এই পুজো খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাড়ার পুজো হিসেবেই গোটা বঙ্গে পরিচিত। এবারের থিম ছিল ‘পুণ্যভূমি মেদিনীপুরের বীরগাথা’। সেই উদ্বোধনী মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর বাবা তথা বর্ষীয়ান নেতা শিশির অধিকারীর সাথে একান্তে সময় কাটানোর সুযোগ পান অভিনেতা।

কাঁথির সেই স্মরণীয় অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে জিৎ বলেন— “আজ সুরুচি দিয়ে কলকাতায় ঠাকুর দেখা শুরু করলাম, কিন্তু মঙ্গলবার গিয়েছিলাম কাঁথিতে। এটা আমার পরম সৌভাগ্য যে সেখানে আমাদের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ায় গিয়ে ক্লাবের পুজোর অংশ হতে পেরেছি। স্বয়ং শিশিরবাবু উপস্থিত ছিলেন, উনি পুজো উদ্বোধন করলেন। ওনার পাশে দাঁড়াতে পেরে, ওনার সাথে কিছুটা কথা বলতে পেরে আমার দারুণ লেগেছে। মুহূর্তগুলো সত্যিই খুব সুন্দর ছিল।”

এবারের পুজোয় জিতের নতুন কোনো ছবি মুক্তি পায়নি। তাই বক্স অফিসের কোনো চাপ বা প্রচারের ব্যস্ততা নেই। ফলে সম্পূর্ণ চাপমুক্ত মনে তিনি উপভোগ করছেন উৎসবের প্রতিটি মুহূর্ত। তবে কাঁথিতে মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ার পুজো উদ্বোধন এবং কলকাতায় ফিরে সুরুচি সংঘের মঞ্চ থেকে নতুন সরকারের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা— মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তীর উপদেষ্টা হওয়ার পর এবার জিতের এই মন্তব্য কি টলিউডে রাজনৈতিক বাতাবরণ পুরোপুরি বদলে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে? সেই চর্চায় এখন রীতিমতো সরগরম গোটা বাংলা!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *