চারপাশে ঘন সবুজ জঙ্গল আর বিশাল পাহাড়ের নির্জনতা। আর সেই নির্জনতার বুকেই লুকিয়ে রয়েছে এক পরম বিস্ময় ও অগাধ আস্থার তীর্থক্ষেত্র। ছত্তিশগড়ের গরিয়াবন্দ জেলার মারৌদা গ্রামের জঙ্গলে অবস্থান করছেন ‘ভূতেশ্বরনাথ মহাদেব’, যাকে স্থানীয় মানুষ ভালোবেসে ডাকেন ‘ভূমিয়ার ধাম’ বা ‘বুড়া ভূতেশ্বর’। কোনো কৃত্রিম বা মানবসৃষ্ট মূর্তি নয়, এখানে গভীর জঙ্গল ঘেঁষে মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে এসেছে এক বিশাল প্রাকৃতিক শিলাখণ্ড, যা পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম স্বয়ম্ভু শিবলিঙ্গ হিসেবে পরিচিত।
বর্তমানে এই প্রকাণ্ড শিবলিঙ্গের উচ্চতা প্রায় ১৮ ফুট এবং পরিধি ২০ ফুটেরও বেশি। তবে এই মন্দিরের সবচেয়ে বড় রহস্য ও অলৌকিকত্ব লুকিয়ে রয়েছে এর ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া আকারের মধ্যে। স্থানীয় পুরোহিত ও ভক্তদের দাবি— কোনো এক অজানা কারণে প্রতি বছর এই শিবলিঙ্গ প্রায় ৬ ইঞ্চি থেকে ১ ফুট পর্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে বড় হয়ে চলেছে! বিজ্ঞান আজও এর কোনো সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি, তবে ভক্তদের বিশ্বাস— এ তো জাগ্রত মহাদেবেরই এক অপার লীলাখেলা। বর্ষাকালে যখন আশপাশের নদী ও ঝরনার জলে গোটা মন্দির চত্বর ৪-৫ ফুট ডুবে যায়, তখনও অটল বিশ্বাস নিয়ে কোমর জলে দাঁড়িয়ে ভক্তরা মহাদেবের আরাধনা করেন।
লোককথা অনুযায়ী, প্রায় ৩০০ বছর আগে এক কৃষক জঙ্গলে গরু চরাতে গিয়ে দেখেন, তাঁর একটি গাভী অলৌকিকভাবে এক বিশেষ স্থানে দাঁড়িয়ে দুধ ঢালছে। পরবর্তীতে সেই জায়গাটি পরীক্ষা করতেই বেরিয়ে আসে এই সুবিশাল স্বয়ম্ভু শিলা। রোগব্যাধি মুক্তি, জমি-জমা বা সন্তান কামনায় দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন এই ধামে। বিশেষ করে শ্রাবণ মাস ও শিবরাত্রিতে নাগা সাধুসহ লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগমে মুখরিত হয়ে ওঠে এই নির্জন জঙ্গল। রায়পুর থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরের গরিয়াবন্দ হয়ে মারৌদা গ্রামের জঙ্গলপথ অতিক্রম করে পৌঁছানো যায় এই অলৌকিক ধামে। তো প্রকৃতির কোলে মহাদেবের এই জাগ্রত রূপ আর বিশ্বাসের অটুট মেলবন্ধন সত্যি এক আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার সৃষ্টি করে।
