দেশের শিক্ষিত যুবসমাজকে আত্মনির্ভর করে তুলতে এবং জাতীয় প্রগতির মূল স্রোতে তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ফের এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র সরকার! বেকারত্ব দূরীকরণ ও সরকারি দফতরে স্বচ্ছ নিয়োগের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে শনিবার দেশজুড়ে আয়োজিত হতে চলেছে এক বিশেষ ‘রোজগার মেলা’। আর এই মেগা কর্মসূচির মঞ্চ থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সদ্য নির্বাচিত ৫১ হাজারেরও বেশি তরুণ-তরুণীর হাতে সরকারি চাকরির আনুষ্ঠানিক নিয়োগপত্র তুলে দিতে চলেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা পিএমও থেকে জারি করা এক সরকারি বিবৃতিতে এই মেগা নিয়োগযজ্ঞের বিস্তারিত রূপরেখা প্রকাশ করা হয়েছে।
শনিবারের এই কর্মসূচিটি কোনো একটি নির্দিষ্ট শহরে সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী— সারা দেশের মোট ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ ও পৃথক কেন্দ্রে একযোগে পালিত হবে এই ‘রোজগার মেলা’। দেশের বিভিন্ন কোণ থেকে মেধার জোরে নির্বাচিত হওয়া যোগ্য প্রার্থীরা এই কেন্দ্রগুলিতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে সরাসরি তাঁদের বহু প্রতীক্ষিত নিয়োগপত্র হাতে পাবেন। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে এই মেগা ইভেন্টে সরাসরি যুক্ত থাকবেন। শুধু নিয়োগপত্র হস্তান্তরই নয়, নতুন সরকারি কর্মীদের দেশ গড়ার মহান দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে এক অনুপ্রেরণামূলক ও দিকনির্দেশক ভার্চুয়াল ভাষণও দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
পিএমও-র তরফ থেকে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক অতীব গুরুত্বপূর্ণ ও স্তম্ভস্বরূপ মন্ত্রকে এই নতুন প্রার্থীদের পদায়ন করা হচ্ছে। রাজস্ব দফতর, রেল মন্ত্রক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক, আর্থিক পরিষেবা বিভাগ এবং জাতীয় সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে এই ৫১ হাজারেরও বেশি যুবক-যুবতী কর্মজীবন শুরু করতে চলেছেন। দীর্ঘদিনের জমে থাকা শূন্যপদগুলি মেধার ভিত্তিতে স্বচ্ছতার সাথে দ্রুত পূরণ করে প্রশাসনিক কাজে চরম গতি আনাই কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য।
সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয় হলো, শনিবারের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে কর্মসংস্থানের ময়দানে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করতে চলেছে মোদী সরকার। এই নিয়ে সফলভাবে মোট ২০টি ধাপে অনুষ্ঠিত হলো কেন্দ্রীয় ‘রোজগার মেলা’। আর এই ২০টি ধাপের সম্মিলিত পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে— দেশের প্রায় ১২ লক্ষ ৭৫ হাজারেরও বেশি মেধাবী যুবকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে সুনিশ্চিত সরকারি চাকরি! কোনো সুপারিশ নয়, কোনো দুর্নীতি বা কাটমানি নয়— সম্পূর্ণ স্বচ্ছ মেধার ভিত্তিতে এক কোটি ২৫ লক্ষেরও বেশি পরিবারের মুখে হাসি ফুটিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার প্রমাণ করে দিল যে, যুবশক্তির বিকাশ ও প্রশাসনিক আধুনিকীকরণই হলো বিকশিত ভারত গড়ার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার।
