বাংলায় নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রুখতে কতটা দুর্নীতিগ্রস্ত স্তরে নামতে পারে গেরুয়া শিবির, এবার তা হাতেনাতে প্রমাণ হয়ে গেল! আদর্শ আর নীতি-নৈতিকতার বুলি আওড়ানো রাজনৈতিক দল বিজেপির আসল মুখোশ খুলে দিল টাকির এক বিলাসবহুল হোটেলের গোপন ভিডিও। বসিরহাট সাংগঠনিক জেলায় বিজেপি এবং তাদের দোসর তথাকথিত ‘গদ্দার’ শিবিরের মধ্যে কোটি কোটি টাকার গোপন লেনদেন ও রাজনৈতিক সেটিংয়ের চাঞ্চল্যকর ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র তোলপাড় শুরু হয়েছে!
ফাঁস হওয়া সেই এক্সক্লুসিভ ফুটেজে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে, টাকির হোটেল রুমে কীভাবে বসিরহাট বিজেপির জেলা সভাপতি সুকল্যাণ বৈদ্যর ঘনিষ্ঠ ডানহাত সুজিত বিশ্বাস এবং টাকি বিজেপির পিরমণ্ডল সভাপতি রণজিৎ দাসসহ একাধিক মণ্ডল স্তরের নেতা এক টেবিলে বসে চক্রান্তের জাল বুনছেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ‘গদ্দার’ শিবিরের বিতর্কিত মুখ ফারুক গাজি। ভিডিওটিতে দেখা গেছে, তাঁদের ঠিক সামনেই রয়েছে একটি রহস্যময় বস্তা, যেখানে রয়েছে বিপুল পরিমাণ কাটমানির নগদ টাকা! অভিযোগ, জেলা সভাপতির নাম ভাঙিয়ে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ বিক্রি করা এবং মমতার তৃণমূলকে আটকাতে নোংরা টাকার খেলা খেলা হচ্ছিল এই গোপন ডেরায়।
শুধু টাকিই নয়, দুর্নীতির এই চক্রান্তের রুট ছড়িয়ে রয়েছে নিউ টাউনের বিলাসবহুল হোটেল পর্যন্ত! অন্য একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিওতে দেখা গেছে, নিউ টাউনের হোটেলে সুজিত বিশ্বাসের নেতৃত্বে বিজেপির মণ্ডল সভাপতিরা ফারুক গাজির সঙ্গে সরাসরি টাকার বিনিময়ে পদ বেচাকেনা এবং দলের ভেতরেই নিবেদিত প্রাণ নেতাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার সলাপরামর্শে মগ্ন ছিলেন। অর্থাৎ যে বিজেপি দুর্নীতি ও স্বচ্ছতার কথা বলে বড় বড় ভাষণ দেয়, তারা নিজেরা ভেতরে ভেতরে কতটা তোলাবাজি, কাটমানি আর পদ বিক্রির নোংরা খেলায় মেতে রয়েছে, তা এবার রাজ্যবাসীর কাছে পরিষ্কার হয়ে গেল।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে সুকল্যাণ বৈদ্য বসিরহাট বিজেপির সভাপতি হওয়ার পর থেকেই দলটার ভেতরে ক্ষোভ ও আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে বিস্তর অভিযোগ উঠছিল। আজকের এই জোড়া বিস্ফোরক ভিডিও প্রমান করে দিল— বিজেপি কোনো রাজনৈতিক দল নয়, বরং এটি পদ বিক্রি ও গদ্দারদের গোপন সেটিংয়ের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। টাকার বস্তা নিয়ে হোটেলের বন্ধ ঘরে কীভাবে ভোট কেনাবেচা ও ষড়যন্ত করা হয়, তা এই ঘটনাই উন্মোচিত করে দিল। এখন দেখার, জনসমক্ষে এইভাবে ধরা পড়ে যাওয়ার পর লজ্জায় মুখ লুকানোর কোন জায়গা বিজেপি খুঁজে পায়!
ক্ষমতায় থেকেও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রশাসন ও দল পরিচালনার এই জঘন্য নমুনা প্রকাশ্যে আসায় রাজ্যের সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নীতি-আদর্শের বুলি ছুড়ে ফেলা বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কিংবা বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব এই জোড়া বিস্ফোরক ভিডিওর পর কীভাবে নিজেদের অপরাধ ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করবেন, এখন সেটাই দেখার। ক্ষমতার লোভে সাধারণ মানুষের আস্থা ও রায়কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তৈরি হওয়া এই দুর্নীতির ইমারত খুব শীঘ্রই ধসে পড়বে বলে মনে করছে সচেতন রাজনৈতিক মহল।
