এবার প্রকাশ্যে এল আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়ে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি! চিকিৎসাসেবার নামে ‘মেগা স্ক্যাম’ রুখতে পুরোপুরি ব্যর্থ নরেন্দ্র মোদির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়?

গরিব ও মধ্যবিত্ত মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসার বুলি আবড়ে যে স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পকে নিজেদের মেগা সাফল্য হিসেবে তুলে ধরত মোদি সরকার, সেই ‘আঞ্চল-আয়ুষ্মান ভারত’ আজ চরম প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও বেলাগাম দুর্নীতির পীঠস্থানে পরিণত হয়েছে! লোকসভায় খোদ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার লিখিত জবাবে পেশ করা পরিসংখ্যানই ফাঁস করে দিল বিজেপি সরকারের নজরদারির কঙ্কালসার দশা। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে জালিয়াতি চালানোর অপরাধে দেশের ২৩৫৯টি হাসপাতালকে সোজা তালিকা থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে এবং আরও ১২০০টি হাসপাতালকে সাসপেন্ড করেছে কেন্দ্র। প্রশ্ন উঠছে, কোটি কোটি টাকা জালিয়াতি হয়ে যাওয়ার পর কেন ঘুম ভাঙল কেন্দ্রীয় সরকারের?
সংসদে মন্ত্রী মহোদয় স্বঘোষিত বাহবা নেওয়ার ভঙ্গিতে জানিয়েছেন যে, অভিযুক্ত হাসপাতালগুলির ওপর ৩২৮.৪৯ কোটি টাকা জরিমানা হাঁকানো হয়েছে এবং ২৯টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু বিরোধী শিবির ও সচেতন নাগরিকদের সোজা প্রশ্ন—বিজেপি সরকারের নাকের তলায় এতদিন ধরে কীভাবে এই বিশাল আন্তর্জাতিক মানের জালিয়াতি চক্র গজিয়ে উঠল? যেখানে কেন্দ্র সরকার প্রযুক্তি ও ডিজিটাল নজরদারির বড় বড় ফাঁকা আওয়াজ তোলে, সেখানে একই চালানের পুনরাবৃত্তি (ডুপ্লিকেট ক্লেম) আর ভূতুড়ে রোগীর নামে ভূয়ো বিল তৈরি করে অসাধু হাসপাতালগুলি কোটি কোটি টাকা লুট করে গেল কীভাবে?
এখন এআই এবং মেশিন লার্নিংয়ের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার ক্ষতি আটকানোর দাবি করে নিজেদের ঢাক পেটাচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক। কিন্তু বাস্তব চিত্রটি সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত করুণ ও আতঙ্কজনক। বিজেপি সরকারের চরম তদারকিহীনতার কারণে হাজার হাজার হাসপাতাল রাতারাতি বাতিল হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ রোগীরা। কার্ড হাতে নিয়ে চিকিৎসার জন্য এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে গরিব মানুষকে, আর জানা যাচ্ছে সেই হাসপাতাল নাকি জালিয়াতির দায়ে বাতিল হয়ে গেছে! অসাধু চক্র আর সরকারের যৌথ গাফিলতির খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ করদাতাদের ও অসহায় রোগীদের।
২০১৮ সালে চালু হওয়া এই প্রকল্পে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৩৪ হাজার হাসপাতাল যুক্ত রয়েছে বলা হলেও, যেভাবে ৩,৫০০-র বেশি হাসপাতাল জালিয়াত হিসেবে চিহ্নিত হলো, তাতে স্পষ্ট যে মোদি সরকারের আয়ুষ্মান ভারত আদতে অসাধু বেসরকারি হাসপাতালগুলির পকেট ভরানোর এক ছাড়পত্রে পরিণত হয়েছে। ‘বেটি বাঁচাও’ কিংবা ‘সবকা সাথ’-এর মতো আয়ুষ্মান ভারতও কি তবে কেবল একটি বড়সড় প্রচারের বেলুন? জবাবদিহি এড়িয়ে কেবল জরিমানা আর বরখাস্তের নাটক করে বিজেপি সরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে পারবে না। জনগণের ট্যাক্সের কোটি কোটি টাকা লুটের দায়ভার নিয়ে সরকারকে স্পষ্ট জবাব দিতেই হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *