রাজ্যে বিজেপি সরকারের দুই মাস পূর্তির আবহে ফের তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ একটি দীর্ঘ পোস্ট করে তিনি দাবি করেন, মাত্র ৬০ দিনের মধ্যেই রাজ্যে একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও ঘটনা ঘটেছে। সেই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি বিজেপি সত্যিই জনগণের রায়ে ক্ষমতায় এসে থাকে, তাহলে তৃণমূল কংগ্রেসকে নিয়ে তাদের এত ভয় কেন?
অভিষেক তাঁর পোস্টে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের ৬০ দিনের ‘১৫টি সাফল্য’ ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, এই সময়ের মধ্যে তৃণমূলের সাংসদ ও বিধায়কদের দলে ভাঙানোর চেষ্টা হয়েছে, বিরোধী শিবিরকে দুর্বল করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে প্রশাসনিক সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করা হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেসকে আর্থিকভাবে কোণঠাসা করতে দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট অচল করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাজার হাজার তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে সংগঠনকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক লড়াইয়ের বদলে বিরোধীদের দমন করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরব হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, গত দুই মাসে রাজ্যে ১৪টিরও বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে একাধিক নাবালিকার ওপর নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। নারী নিরাপত্তার অবনতির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পাশাপাশি সংখ্যালঘু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও তাঁর অভিযোগের তালিকায় স্থান পেয়েছে।
জনকল্যাণমূলক প্রকল্প নিয়েও বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করেন তৃণমূল নেতা। তাঁর দাবি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প থেকে প্রায় এক কোটি সুবিধাভোগীর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও মিড-ডে মিলে ডিম বাদ দিয়ে নিরামিষ বিকল্প চালু করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এতে শিশুদের প্রয়োজনীয় প্রোটিন থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
অভিষেকের অভিযোগের তালিকায় আরও রয়েছে হকার ও প্রান্তিক মানুষের বিরুদ্ধে বুলডোজার অভিযান, গরিব মানুষের ঘরবাড়ি ভাঙা, বিরোধী নেতাদের গৃহবন্দি করে রাখা এবং নিরাপত্তা প্রত্যাহারের মতো বিষয়। তাঁর দাবি, যারা সরকারের সঙ্গে আপস করছে, তাদের নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে, আর যারা প্রতিবাদ করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সিআইডি, ইডি, এসটিএফ ও সিবিআইয়ের নোটিশ এবং তল্লাশি অভিযানের মাধ্যমে বিরোধীদের চাপে রাখা হচ্ছে। এমনকি আদালতের কার্যক্রমেও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি মহল থেকে পৃথকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত সামনে আসেনি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পোস্ট ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে বিজেপির ধারাবাহিক সমালোচনা, অন্যদিকে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ—সব মিলিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। আগামী দিনে এই অভিযোগ-প্রতিআরোপের লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।