ইতিহাস তৈরি হলো বাংলায়! ২০২৬-এর ৪ মে দিনটি চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। দীর্ঘদিনের তোষণ আর দুর্নীতির অন্ধকার কাটিয়ে বাংলার আকাশে আজ উদিত হয়েছে গেরুয়া সূর্য। ২৯৩টি আসনের মধ্যে একাই ১৯৪টি আসন দখল করে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নবান্ন দখল করতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। মোদীজির উন্নয়ন আর অমিত শাহের রণকৌশলের কাছে খড়কুটোর মতো উড়ে গেল তৃণমূলের সাম্রাজ্য। দিকে দিকে এখন শুধু একটাই আওয়াজ— ‘জয় শ্রী রাম’। কিন্তু এই জয়ের সাথেই শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। এবার কি বদলে যাবে নবান্নের নাম? নাকি রাইটার্স বিল্ডিংয়ে ফিরবে পুরনো ঐতিহ্য?
১৯৪টি আসন—অর্থাৎ বাংলার দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ এবার বিজেপিকেই বেছে নিয়েছে। এই বিপুল জয়ের পর মানুষের মুখে মুখে এখন একটাই প্রশ্ন— বিজেপির এই নতুন সরকার কি হাওড়ার ‘নবান্ন’ থেকেই কাজ চালাবে, নাকি ঐতিহ্যবাহী রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সংস্কার করে সেখানে ফিরে যাবে প্রশাসনিক কেন্দ্র?
বিজেপি নেতারা বরাবরই রাইটার্স বিল্ডিংয়ের হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনার কথা বলে এসেছেন। শুধু তাই নয়, উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য ‘উত্তরকন্যা’-কে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁদের ঝুলিতে। সচিবালয়ের নাম বদলাবে কি না, তা হয়তো সময়ের অপেক্ষা, কিন্তু এটা নিশ্চিত যে আজ থেকে বাংলার প্রশাসনিক কাজ পরিচালিত হবে দুর্নীতিমুক্ত এবং স্বচ্ছভাবে। কোনো ‘ভাইপো’ বা ‘তোষণকারী’র কথায় নয়, এবার কাজ হবে সাধারণ মানুষের স্বার্থে। একদিকে যখন উৎসবের মেজাজ, অন্যদিকে তখন চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন চুরমার হয়ে যাওয়ায় হাহাকার শুরু হয়েছে তৃণমূল শিবিরে। পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই এবার নির্বাচন কমিশনের ওপর দোষ চাপাতে শুরু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশনের দেওয়া ট্রেন্ড যখন পরিষ্কারভাবে বিজেপির জয় দেখাচ্ছে, ঠিক তখনই কোনো তথ্য ছাড়াই গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলছেন তিনি। ভিডিও বার্তায় তাঁকে বলতে শোনা গেল, “সূর্যাস্তের পর আমরাই জিতব।” প্রশ্ন উঠছে— গণনার টেবিলে যখন মানুষের রায় স্পষ্ট, তখন কোন জাদুবলে তিনি সূর্যাস্তের পর জেতার স্বপ্ন দেখছেন? কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের যে অভিযোগ তিনি তুলেছেন, তা আসলে নিজের ব্যর্থতা ঢাকার এক মরিয়া চেষ্টা। পুলিশ এবং প্রশাসন যখন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে, তখনই কেন তৃণমূলের এত গাত্রদাহ? আসলে মানুষের রায়কে সম্মান জানানোর মানসিকতাটাই হারিয়ে ফেলেছে ঘাসফুল শিবির। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় জয় হয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশনের। কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় এবার আর ‘ছাপ্পা’ বা ‘বুথ দখল’ করে বৈতরণী পার হতে পারেনি তৃণমূল। মানুষ এবার নির্ভয়ে ভোট দিয়েছেন, আর কমিশন সেই রায়ের পবিত্রতা রক্ষা করেছে।
তৃণমূল নেত্রী অভিযোগ করছেন যে ১০০-র বেশি আসনে নাকি তাঁদের এগিয়ে থাকা দেখানো হচ্ছে না। কিন্তু সত্য এটাই যে, বাংলার মানুষ এবার তোষণ আর কাটমানির সরকারকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন। বিজেপির এই জয় আসলে সত্যের জয়। কোনো ভুয়ো রিপোর্ট নয়, বরং ইভিএম-এ বন্দি মানুষের প্রকৃত ইচ্ছাই আজ প্রতিফলিত হচ্ছে। দুর্নীতি দমন শাখার পরিধি বাড়িয়ে অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনাই এখন বিজেপির প্রধান লক্ষ্য।
বাংলার মসনদে এবার গেরুয়া বসন্ত। ১৯৪টি আসনের এই বিশাল রায় প্রমাণ করে দিল— বাংলা আর পিছিয়ে থাকতে চায় না। নবান্নের নাম বদলাক বা না বদলাক, বাংলার মানুষের ভাগ্য যে এবার বদলাতে চলেছে, তা হলফ করে বলা যায়। মোদীজির ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ মন্ত্রেই এবার তৈরি হবে ‘সোনার বাংলা’।
বিজেপির এই মহাবিজয়কে আপনি কীভাবে দেখছেন? নবান্নের নাম কি সত্যিই বদলে দেওয়া উচিত? কমেন্টে আমাদের জানান। বাংলার এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের প্রতিটি মুহূর্তের খবর পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।