বেশ কয়েকদিন ধরেই চর্চার কেন্দ্রে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। কখনও দেশবিরোধী দেওয়াল লিখন, কখনও বাম ছাত্র সংগঠন ও এবিভিপির সংঘাত একাধিক ঘটনাকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়েছে ক্যাম্পাস। সেই আবহেই এবার যাদবপুরে নতুন রাজনৈতিক কর্মসূচি। লাল দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বুকেই এবার বসতে চলেছে জাতীয়তাবাদী সম্মেলন। আর সেই ঘোষণাতেই ফের তুঙ্গে রাজনৈতিক উত্তাপ।
আগামী ৪ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসের ত্রিগুণা সেন মঞ্চে হবে ওই সম্মেলন। বিজেপির উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার কথা রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, স্বপন দাশগুপ্ত এবং জিষ্ণু বসুর মতো নেতাদের। বন্দে মাতরমকে ঘিরে কর্মসূচির পর এবার জাতীয়তাবাদী সম্মেলন পরপর এই দুই উদ্যোগকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, যাদবপুরের রাজনৈতিক পরিসরে কি নতুন সমীকরণের বার্তা দিতে চাইছে বঙ্গ বিজেপি?
কারণ, কয়েক সপ্তাহ আগেই অন্য ছবির সাক্ষী ছিল এই ক্যাম্পাস। আগস্টের মাঝামাঝি বাম ছাত্র সংগঠন ও আরএসএসের ছাত্র সংগঠন এবিভিপির মধ্যে সংঘাতকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। রাতে ক্যাম্পাসে হামলার অভিযোগ ওঠে। পরে এসএফআই এবং এবিভিপির মিছিল ঘিরেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জিবি বৈঠককে কেন্দ্র করে টানা আন্দোলন-পালটা আন্দোলনে কার্যত সরগরম হয়ে ওঠে যাদবপুর।
এর মধ্যেই সামনে আসে আরও বিতর্কিত অধ্যায় ক্যাম্পাসের দেওয়ালে লেখা বিভিন্ন স্লোগান। রেড স্যালুট কিষেণজি ‘টুকরে টুকরে গ্যাং থেকে কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি এই ধরনের দেওয়াল লিখন নিয়ে শুরু হয় তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। অভিযোগ ওঠে, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে দেশবিরোধী প্রচার চলছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপও বাড়তে থাকে।
সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কিত দেওয়াল লিখনের ছবি ও ভিডিও তুলে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর তরফে কড়া বার্তা দেওয়া হয় যাদবপুরের দেওয়ালে এই ধরনের স্লোগান বরদাস্ত করা হবে না। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে একাধিক বিতর্কিত দেওয়াল লিখন মুছে ফেলা হয়। ফলে লাল দুর্গ যাদবপুরকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও এক ধাপ তীব্র হয়
এই টানটান পরিস্থিতির মধ্যেই এবার ক্যাম্পাসের ভিতরে জাতীয়তাবাদী সম্মেলন। অর্থাৎ যে বিশ্ববিদ্যালয়কে দীর্ঘদিন ধরে বামপন্থী ছাত্র রাজনীতির অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে দেখা হয়েছে, সেখানেই সরাসরি জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে হাজির হচ্ছে বিজেপি। ফলে এই কর্মসূচিকে শুধুই একটি সাংগঠনিক অনুষ্ঠান হিসেবে দেখতে নারাজ রাজনৈতিক মহলের একাংশ।দেওয়াল লিখন নিয়ে বিতর্ক, ছাত্র সংগঠনগুলির সংঘাত, মিছিল-পালটা মিছিল সব মিলিয়ে এমনিতেই যাদবপুরের রাজনৈতিক আবহ উত্তপ্ত। তার মাঝেই ৪ সেপ্টেম্বরের জাতীয়তাবাদী সম্মেলন। ত্রিগুণা সেন মঞ্চ থেকে বিজেপি নেতারা কী বার্তা দেন, ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক সমীকরণে তার কী প্রভাব পড়ে সেদিকেই এখন নজর। ‘লাল দুর্গে’ জাতীয়তাবাদের এই পদক্ষেপ কি নিছক সম্মেলন, নাকি বড় কোনও রাজনৈতিক বার্তার শুরু উত্তর মিলবে সেদিনই।