“বাবা, একটু দাঁড়াও!” – রোডের মাঝেই হঠাৎ থমকে দাঁড়াল মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় !পুলিশের বাধা পেরিয়ে শুভেন্দুর মাথায় পৌঁছালো আশীর্বাদের হাত সাথে ছিল ছোট্ট আর্জি !

ব্যস্ত যশোর রোড ধরে তখন এগিয়ে চলেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়। ঠিক সেই মুহূর্তেই নিরাপত্তার কড়া বেষ্টনী আর ট্রাফিকের সায়রেনকে ছাপিয়ে ভেসে এলো এক ৬৮ বছরের বৃদ্ধার আকুল আহ্বান— “বাবা, একটু দাঁড়াও!” ভিড়ের মধ্যে থেকে এক বৃদ্ধার এই ডাক কানে পৌঁছাতেই আর এক মুহূর্তও দেরি করেননি মুখ্যমন্ত্রী। নিরাপত্তাকর্মীরা মহিলাকে সরিয়ে দিতে গেলে গাড়ি থামিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই নির্দেশ দেন— “ওনাকে আসতে দিন আমার কাছে।”

ঘটনাটি সোমবার মধ্যমগ্রামের। উত্তর ২৪ পরগনা মহিলা কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটির ৩৫তম প্রতিষ্ঠা দিবসে যোগ দিতে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আমন্ত্রণের চিঠি না থাকায় সভার ভেতরে ঢুকতে পারেননি মধ্যমগ্রাম শ্রীনগরের বাসিন্দা ৬৮ বছরের স্বপ্না দাস। প্রায় ১২ বছর আগে স্বামীকে হারিয়েছেন, তার ওপর এমএ পাস করা একমাত্র ছেলে শুভজিৎ অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। কোনোমতে মানুষের সাহায্যে চলা এই সংসারে ভাতার জন্য ঘুরছিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীকে সামনে থেকে নিজের অভাবের কথা বলবেন বলেই রোদের মধ্যে যশোর রোডের ধারে অপেক্ষা করছিলেন ওই বৃদ্ধা।

গাড়ির কাঁচ নামতেই শুভেন্দু অধিকারীর মাথায় হাত রেখে দু-হাত ভরে আশীর্বাদ করেন স্বপ্না দেবী। জানান তাঁর সংসারের করুণ অবস্থার কথা— ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র ফর্ম জমা দিয়েও কোনো সাহায্য মিলেনি। বৃদ্ধার বয়স ও পারিবারিক পরিস্থিতির কথা শোনামাত্রই সঙ্গে সঙ্গে মানবিক পদক্ষেপ নেন মুখ্যমন্ত্রী। অন্নপূর্ণা যোজনার প্রশাসনিক জটিলতা এড়িয়ে তাঁকে সরাসরি ‘বার্ধক্য ভাতা’র আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেন এবং উপস্থিত জেলাশাসক শিল্পা গৌরিসারিয়াকে তৎক্ষণাৎ নাম নথিভুক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

মুখ্যমন্ত্রীর এই স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া ও আন্তরিকতায় আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন স্বপ্না দাস। কোনো সরকারি ভাতার থেকেও মুখ্যমন্ত্রীর মাথায় হাত রেখে সন্তানস্নেহে আশীর্বাদ করতে পারাকেই জীবনের সবচেয়ে বড় পাওনা বলে মনে করছেন তিনি। এক অসহায় মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *