জীবনের শুরু থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়া পর্যন্ত পথটা যে একেবারেই মসৃণ ছিল না, সেই কথাও বারবার উঠে এসেছে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গে।
তাই অমিত শাহের এই মন্তব্য ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে চর্চা। ২৫ বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়কে মাত্র কয়েকটি শব্দে তুলে ধরে তিনি আসলে কী বোঝাতে চাইলেন? কীভাবে দেখেন তিনি নরেন্দ্র মোদির এই দীর্ঘ পথচলাকে?
২৫ বছর ধরে রাজনীতির ময়দানে পথচলা। এই দীর্ঘ সময়ে এসেছে সাফল্য, এসেছে সমালোচনা, এসেছে রাজনৈতিক সংঘাতও। আর সেই ২৫ বছরের জনজীবনকে সামনে রেখেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মোদির ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে গুজরাতের ভাদনগরে এক অনুষ্ঠানে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন শাহ। সেখানেই তিনি বলেন, ২৫ বছরের জনজীবনে মোদির কুর্তায় একটিও দাগ লাগেনি।
অমিত শাহের বক্তব্যে উঠে আসে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মোদির ভাবমূর্তি ও সততার প্রসঙ্গ। তাঁর দাবি, এত বছর জনজীবনে থাকার পরেও বিরোধীরাও মোদির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনতে পারেননি। এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে শাহ আসলে মোদির দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রাকে তাঁর নিজের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তুলে ধরেছেন। তবে এটি অমিত শাহের রাজনৈতিক মূল্যায়ন একে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনও নিরপেক্ষ রায় হিসেবে দেখা উচিত নয়।
মোদির রাজনৈতিক জীবনের এই ২৫ বছর নিছক একটি সংখ্যাও নয়। ২০০১ সালে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজ্য রাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে আসেন তিনি। পরে ২০১৪ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। অমিত শাহ জানান, সাংগঠনিক পর্যায় থেকে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী এই দীর্ঘ পথচলায় তিনি মোদির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন।
এই দীর্ঘ পথচলার কথা বলতে গিয়ে মোদির ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও মন্তব্য করেন শাহ। তাঁর বক্তব্য, ২৫ বছর জনজীবনে থাকার পরেও মোদির পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে সাধারণ মানুষের খুব বেশি কিছু জানা নেই। শাহের কথায়, মোদি গোটা দেশকেই নিজের পরিবার হিসেবে দেখেছেন। তাঁর এই বক্তব্যে উঠে আসে মোদির ব্যক্তিগত জীবনকে ঘিরে তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীদের দৃষ্টিভঙ্গি।
ভাদনগরের সেই অনুষ্ঠানে শুধু বক্তব্য নয়, শুরু হয় ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ও। মোদির জন্মস্থান ভাদনগরে শর্মিষ্ঠা লেকের কাছে মহা আরতি, হাটকেশ্বর মহাদেব মন্দির পর্যন্ত পদযাত্রা এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির মতো নানা আয়োজন হয়। তাঁর জন্মস্থান থেকে বারাণসী পর্যন্ত বাইক যাত্রার কর্মসূচিও রাখা হয়। অর্থাৎ জন্মদিনের উদযাপনকে মোদির ২৫ বছরের জনজীবনের সঙ্গে যুক্ত করেই নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
অমিত শাহ তাঁর বক্তব্যে মোদির রাজনৈতিক জীবনকে পদ্মফুলের সঙ্গে তুলনা করেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল কঠিন রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যেও মোদি নিজের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ধরে রেখেছেন। একইসঙ্গে তিনি মোদির জীবনকে ‘ভারত প্রথম’ ভাবনার সঙ্গে যুক্ত করেন এবং দেশের মানুষের জন্য তাঁর দীর্ঘদিনের কাজের কথা তুলে ধরেন। এগুলি অবশ্য শাহের বক্তব্য ও রাজনৈতিক মূল্যায়ন হিসেবেই উপস্থাপিত হয়েছে।
২৫ বছরের পথচলা তাই ফিরে দেখারও এক মুহূর্ত। একজন সংগঠক থেকে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী, সেখান থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী এই দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়কে নিজের চোখে দেখা অমিত শাহ সেই অভিজ্ঞতা থেকেই মোদির জনজীবন সম্পর্কে কথা বলেছেন। ‘২৫ বছরে কুর্তায় একটিও দাগ লাগেনি’ তাঁর এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই মোদির রাজনৈতিক জীবন নিয়ে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।