স্যামসাং, শাওমি, ভিভোকে এবার টক্কর দিতে পারে ভারতেরই স্মার্টফোন ব্র্যান্ড!

মেক ইন ইন্ডিয়ার পর এবার ভারতের লক্ষ্য আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। দেশে মোবাইল ফোন তৈরি করা নয়, এবার নিজস্ব ডিজাইন, নিজস্ব প্রযুক্তি এবং নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈরি করতে চাইছে ভারত। ইলেকট্রনিক্স ও আইটি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, লক্ষ্য পূরণ হলে ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই ভারতের প্রথম শক্তিশালী স্বদেশী স্মার্টফোন ব্র্যান্ডের উত্থান দেখা যেতে পারে। অর্থাৎ আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় নামের স্মার্টফোন নিয়ে বড় প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে।

এই লক্ষ্য পূরণে সরকার আনতে চলেছে ৬২,৫০০ কোটি টাকার মোবাইল ফোন ম্যানুফ্যাকচারিং স্কিম, সংক্ষেপে MPMS। পাঁচ বছরের এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য শুধু উৎপাদন বাড়ানো নয়। বরং ভারতীয় কোম্পানিগুলোকে উৎসাহ দেওয়া হবে পণ্য ডিজাইন, গবেষণা ও উন্নয়ন, দেশীয় প্রযুক্তি এবং স্থানীয়ভাবে যন্ত্রাংশ সংগ্রহে। তবে এই সুবিধা পেতে হলে কোম্পানিগুলোকেও বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। কোম্পানির মালিকানায় ভারতীয়দের অংশীদারিত্ব ৫১ শতাংশের বেশি হতে হবে।

শুধু তাই নয়, সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডের মেধাস্বত্ব এবং ট্রেডমার্ক ভারতেই থাকতে হবে। এমনকি কোম্পানির নিজস্ব ডিজাইন এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্রও ভারতে থাকা বাধ্যতামূলক। ভারত চাইছে—আইডিয়া থেকে ডিজাইন, ডিজাইন থেকে প্রযুক্তি এবং প্রযুক্তি থেকে ব্র্যান্ড—পুরো ইকোসিস্টেমটাই গড়ে উঠুক দেশের ভিতরে। আজ ভারতে বিক্রি হওয়া মোবাইল ফোনের প্রায় ৯৯ শতাংশই দেশের মাটিতে তৈরি হচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে—ফোন তৈরি হচ্ছে ভারতে, অথচ সেই ফোনের ব্র্যান্ডের মালিকানা এবং বাজারের নিয়ন্ত্রণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিদেশি কোম্পানির হাতে।

একসময় পরিস্থিতি কিন্তু এমন ছিল না। ২০১৫ সালের দিকে ভারতীয় স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলোর বাজার অংশীদারিত্ব ছিল প্রায় ৩৫ শতাংশ। আজ সেই অংশীদারিত্ব নেমে এসেছে এক শতাংশেরও নিচে। লাভা, মাইক্রোম্যাক্সের মতো একসময় পরিচিত ভারতীয় ব্র্যান্ডগুলোও ধীরে ধীরে বাজারে পিছিয়ে পড়েছে। অন্যদিকে স্যামসাং, শাওমি, ভিভোসহ আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো ভারতের স্মার্টফোন বাজারে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। সরকারের নতুন প্রকল্প তাই ভারতীয় কোম্পানিগুলোর জন্য বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে।

বিশেষ করে লাভা এই প্রকল্পের অন্যতম বড় সুবিধাভোগী হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কোম্পানিটি ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পে আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। এর পাশাপাশি আরও কিছু দেশীয় উদ্যোগও এই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। প্রকল্পে ভারতীয় ব্র্যান্ডদের যোগ্য বিক্রির ওপর ৫ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হবে। দেশীয় ডিজাইন ও গবেষণার জন্য অতিরিক্ত ৩ শতাংশ এবং গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ দেশ থেকে সংগ্রহ করলে আরও ১.৫ শতাংশ পর্যন্ত সুবিধা পাওয়া যাবে।পাঁচ বছরে এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৩৯ লাখ কোটি টাকার মোবাইল ফোন উৎপাদন এবং ৬০ হাজার প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শুধু উৎপাদন বাড়ানোই নয়, লক্ষ্য আরও বড়।

সরকার চাইছে ফোনের ভেতরের প্রযুক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ তৈরির ক্ষেত্রেও ভারত ধীরে ধীরে আত্মনির্ভর হয়ে উঠুক। এর ফলে ইলেকট্রনিক্স কম্পোনেন্ট, সেমিকন্ডাক্টর, ব্যাটারি, ক্যামেরা মডিউল, ডিসপ্লে, সফটওয়্যার এবং গবেষণা—একাধিক ক্ষেত্রেই নতুন বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। ভারত এমন একটি দেশ হতে চায়, যেখানে বিদেশি কোম্পানির জন্য শুধু ‘Manufacturing Hub’ নয়, বরং ভারতীয় কোম্পানির জন্যও ‘Brand Creation Hub’ তৈরি হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *