baruipur-rape-murder-case

বারুইপুর এনকাউন্টার মামলায় পুলিশের ভুমিকা নিয়েই শুরু হল তদন্ত! বারুইপুর এনকাউন্টার মামলায় কি বদলাবে তদন্তের দায়িত্ব? শুরু হয়েছে জোর চর্চা!

বারুইপুর এনকাউন্টার-কাণ্ডে ফের নতুন মোড়। অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যুর তদন্তে সিআইডির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাই কোর্টে দায়ের হল আরও একটি জনস্বার্থ মামলা। মামলাকারীর দাবি, যে ঘটনায় রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেই ঘটনার তদন্ত একই পুলিশ প্রশাসনের অধীনস্থ সংস্থার হাতে থাকলে নিরপেক্ষতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই সংশয় তৈরি হয়। তাই এই মামলার তদন্ত অন্য কোনও স্বাধীন সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে আদালতের কাছে।

ঘটনার সূত্রপাত বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের মামলায়। ওই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের গুলিতে নিহত হন। পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণের সময় প্রভাস এক পুলিশকর্মীর অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। আত্মরক্ষার স্বার্থেই গুলি চালাতে বাধ্য হন কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা। এরপর থেকেই পুরো ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয় বিতর্ক।

বর্তমানে এই এনকাউন্টারের তদন্ত করছে রাজ্য পুলিশের তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি। তবে সেই তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েই এবার আদালতে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকার কর্মী সুজাত ভদ্র। তাঁর বক্তব্য, রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত একই প্রশাসনিক কাঠামোর আওতাধীন সংস্থার হাতে থাকলে প্রকৃত সত্য সামনে আসা কঠিন হতে পারে। তাই স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

এই নতুন মামলার ফলে বারুইপুর এনকাউন্টারকে ঘিরে কলকাতা হাই কোর্টে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল চার। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাগুলির একসঙ্গে শুনানি চলছে। ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে আদালত। আগামী ১৮ অগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে।

আবেদনকারীর আইনজীবীর দাবি, তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে হলে এমন একটি সংস্থার হাতে তদন্তের দায়িত্ব থাকা উচিত, যার সঙ্গে ঘটনায় জড়িত কোনও প্রশাসনিক যোগ নেই। আদালতে এই যুক্তিও তুলে ধরা হয়েছে যে, নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তদন্তকারী সংস্থা পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এদিকে এনকাউন্টারকে ঘিরে আরও কয়েকটি প্রশ্নও আদালতের নজরে এসেছে। অভিযোগ, গভীর রাতে অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল। সেই সময় পুরো প্রক্রিয়ার ভিডিও রেকর্ডিং ছিল না বলেও দাবি উঠেছে। কেন রাতের অন্ধকারে এই পুনর্নির্মাণ করা হল এবং সেখানে ঠিক কী ঘটেছিল, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়ে বারুইপুর জেলা পুলিশের সুপারের কাছে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

অন্যদিকে রাজ্যের আইনজীবী আদালতে জানিয়েছেন, তদন্ত চলাকালীন অভিযুক্ত অপরাধের কথা স্বীকার করেছিলেন বলেই তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণে নিয়ে যাওয়া হয়। পুরো প্রক্রিয়া আইন মেনেই সম্পন্ন হয়েছে এবং পুলিশ নির্ধারিত বিধি অনুসারেই কাজ করেছে বলে রাজ্যের দাবি।

সব মিলিয়ে বারুইপুর এনকাউন্টার মামলায় তদন্তের নিরপেক্ষতা এখন আইনি বিতর্কের কেন্দ্রে। আদালতের নির্দেশে রাজ্যের রিপোর্ট জমা পড়ার পর তদন্তের ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোবে সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *