CAA-তে আবেদন করার জন্য মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষকে বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর নীলদর্পণ প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত বনগাঁ জেলা মতুয়া সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই বার্তা দেন তিনি। এদিনের সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের সংঘাধিপতি তথা কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। মতুয়াদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, CAA-তে আবেদন করে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং ভারত সরকারের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে।
CAA বা Citizenship Amendment Act নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে আলোচনা রয়েছে। কেন্দ্রের সরকারি পোর্টালে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আইনের আওতায় নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ব্যক্তিরা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে CAA-র আওতায় আবেদন করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও নথিপত্রের প্রয়োজন রয়েছে। ফলে শুধুমাত্র কোনও একটি সম্প্রদায়ের সদস্য হওয়াই আবেদন করার একমাত্র শর্ত নয়।
এদিনের সম্মেলনে শুধু CAA নয়, মতুয়া মহাসঙ্ঘের সাংগঠনিক কাজ এবং ঠাকুরনগর-ওড়াকান্দির উন্নয়ন নিয়েও বক্তব্য রাখেন শান্তনু ঠাকুর। অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের কাজের প্রশংসা করেন তিনি। তাঁর দাবি, সংগঠনটি ভাল কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনের পর ঠাকুরনগর এবং ওড়াকান্দি নতুন মাত্রা পেয়েছে বলেও দাবি করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। আগামী দিনে ঠাকুরনগরের উন্নতি এবং সমৃদ্ধির জন্য মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্গে সম্প্রদায়ের মানুষকে যুক্ত থাকার আবেদনও জানান তিনি।
এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েও মতুয়া সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে মুখ খোলেন শান্তনু ঠাকুর। তিনি জানান, মতুয়া মহাসঙ্ঘের পক্ষ থেকে বর্তমান সরকারের কাছে একাধিক দাবি জানানো হয়েছে। আগামী দিনে সেই দাবিগুলি পূরণ হবে বলেও তাঁরা আশাবাদী। CAA নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই মতুয়া সম্মেলনের মঞ্চ থেকে আবেদন করার বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে এল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রসঙ্গ।এখন দেখার, শান্তনু ঠাকুরের এই আবেদন মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে কতটা সাড়া ফেলে এবং CAA-তে আবেদন প্রক্রিয়ায় তার কী প্রভাব পড়ে।