বাংলা, বাঙালি সংস্কৃতি এবং বহুকালের গর্বিত বাঙালি সত্তাকে সোজা রাজপথে দাঁড়িয়ে অপমান করার এক নজিরবিহীন অভিযোগ উঠল বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে। বিজেপি সভাপতির দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বাঙালি-বিরোধী মন্তব্যকে ঘিরে রবিবার রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ ঘটেছে। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, কেবল হিন্দি বলয় ও অবাঙালি ব্যবসায়ীদের তোষণ করতে গিয়ে শমীকবাবু আস্ত বাঙালি জাতিকে চূড়ান্ত ছোট করেছেন এবং হেয় প্রতিপন্ন করেছেন। এই কুরুচিকর ও অপমানজনক মন্তব্যের জন্য শমীক ভট্টাচার্যকে অবিলম্বে প্রকাশ্যে সমগ্র বাঙালি জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে— এই দাবিতে সোচ্চার হয়েছে জোড়াফুল শিবির।
রবিবার বিকেলে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে বিষয়টি নিয়ে কড়া ভাষায় তোপ দাগেন বেলেঘাটার বিধায়ক তথা তৃণমূলের বর্ষীয়ান মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শমীক ভট্টাচার্য নিজে এ রাজ্যের বাসিন্দা, একজন বাঙালি এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকেই নির্বাচিত রাজ্যসভার সদস্য। নিজের মাতৃভাষা এবং নিজস্ব শিকড় থাকা সত্ত্বেও কী ভাবে তাঁর মুখ থেকে এমন চরম বাঙালি-বিদ্বেষী বক্তব্য বের হতে পারে, তা ভাবলেই লজ্জা লাগে। কুণাল ঘোষ স্পষ্ট জানান, গুপ্তা বা জয়সওয়ালদের মতো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষজন না থাকলে নাকি বাঙালির কোনো অস্তিত্বই থাকত না— শমীকবাবুর এমন আজব দাবি কেবল ভিত্তিহীনই নয়, বরং সরাসরি বাংলার মহান ঐতিহ্য, আত্মমর্যাদা ও গর্বে কুঠারাঘাত করার শামিল।
তৃণমূল মুখপাত্রের অভিযোগ, এ রাজ্যে বিভিন্ন সময় বহিরাগতরা এসেছে, তাদের মেধা ও শ্রম দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে নিজেদের স্থান তৈরি করেছে। বাংলা সংস্কৃতির অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্যই হলো সবাইকে আপন করে নেওয়া। কিন্তু অন্য কোনো সম্প্রদায়ের অবদানকে তুলে ধরতে গিয়ে গোটা বাঙালি জাতিকে পরাধীন বা পরজীবী বানিয়ে দেওয়া কোনো সুস্থ মনের পরিচয় হতে পারে না।
তৃণমূল শিবিরের তোপ, বিজেপির রাজনীতি চিরকালই পশ্চিম ও উত্তর ভারতের বহিরাগত সংস্কৃতি এবং হিন্দি বলয়ের রাজনৈতিক ভাবাবেগের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। দিল্লির মসনদে বসে থাকা প্রভুদের এবং গুজরাট-রাজস্থানের কর্পোরেট লবিকে খুশী করতেই কি বাংলার বিজেপি নেতারা বারবার নিজস্ব সংস্কৃতিকে এভাবে বিক্রি করে দিচ্ছেন? এই প্রশ্নই আজ তাড়া করে বেড়াচ্ছে সাধারণ মানুষকে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, বিদ্যাসাগর থেকে শুরু করে মাস্টারদা সূর্য সেন ও স্বadeshi আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলা বিশ্ব দরবারে যে অনন্য উচ্চতা তৈরি করেছে, তাকে এক নিমেষে অস্বীকার করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
তৃণমূল কংগ্রেস স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছে যে, অন্যদের কৃতিত্ব স্বীকার করতে কারো দ্বিমত নেই, তবে অন্যের তোষামোদ করতে গিয়ে নিজের জন্মভূমি ও স্বজাতিকে ছোট করার অধিকার বিজেপিকে কেউ দেয়নি। রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে বাঙালিকে অসম্মান করার এই ঘৃণ্য খেলায় মেতে উঠে বিজেপি তাদের আসল বাংলা-বিরোধী চেহারাটা আবার উন্মোচিত করল। এর জবাব আগামী দিনে বাংলার আপামর জনগণই রাজনৈতিকভাবে দেবে বলে হুঙ্কার দিয়েছে শাসকদল।
