বাংলায় বাল্যবিবাহ রোধ করতে এবার কড়া পদেক্ষেপের হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। নাবালিকার বিয়ে দিলেই ধরা পড়লেই জেল-জরিমানা। আর কী কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী? ইংরেজ আমল হোক কিংবা রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সময়। বাংলায় বহুকাল ধরে চলে আসছে বাল্যবিবাহ। অল্প বয়সের নাবালিকাদের বয়সে বড় ছেলেদের সঙ্গে পাত্রস্থ করে দেওয়ার ব্যাপার নিয়ে নবজাগরণ থেকে শুরু করে বাল্যবিবাহ বন্ধ নিয়ে কম আন্দোলন হয়নি এই বাংলায়। এমনকি কেন্দ্রীয় সরকারও দেশজুড়ে বাল্যবিবাহ রোধে কড়া আইন এনেছে। তারপরও ঠেকানো যাচ্ছে না অল্প বয়সে ছেলে-মেয়েদের বিয়ে। এবার সেই বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানালো রাজ্য সরকার।
সোমবার এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান যে, এবার থেকে বাল্য বিবাহ বা নাবালিকার বিয়ে বন্ধে বাড়ি বাড়ি অভিযান চালানো হবে। শহর ও শহরতলি জুড়ে চলবে এই অভিযান পর্ব। এই ধরনের কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে ধরা পড়লে বড়সড় শাস্তির মুখে পড়বেন নাবালিকার পরিবারের সদস্যরা। পুরোহিত ও কাজীকেও জেল হেফাজতের পাঠানোর ব্যবস্থা করা হতে পারে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান যে, বাল্যবিবাহের তালিকায় পশ্চিমবঙ্গ উপরের দিকেই রয়েছে। সেই পরিসংখ্যানও সামনে এসেছে। বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে এই বাল্যবিবাহের হার অনেক গুণ বেড়েছে! এমনই অভিযোগ সামনে এসেছে। এবার সেই বাল্যবিবাহ রুখতে বড় পদক্ষেপ করছে রাজ্য সরকার। বাল্যবিবাহ রুখতে এবার থেকে বাড়ি বাড়ি অভিযান হবে। সেই বার্তা এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দিলেন। এদিন নবান্ন থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই বৈঠক থেকে তিনি জানান, বাংলায় বাল্যবিবাহ বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে এই প্রবণতা তীব্র আকার নিচ্ছে। এখনই তা রোধ করা না গেলে ভবিষ্যতে বড়ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে।
এমনিতেই দেশে বিবাহের ক্ষেত্রে মেয়েদের ১৮ বছর ও ছেলেদের বয়স ২১ ধার্য রয়েছে। তার নীচে কেউ বিয়ে করলে আইনি জটিলতা, জেল জরিমানার শাস্তির কথাও বলা হয়েছে। তবুও হেলদোল নেই কারও। এখনও অনেক জায়গাতেই ভালো ছেলে পেলে অল্পবয়সী নাবালিকা মেয়েকে পাত্রস্থ করে দেওয়ার স্বভাব রয়েছে অনেক পরিবারের। ফলে পরিবারের চাপে পড়ে অল্প বয়সে বিয়ে করে ফেলেন মেয়েরা। এতে যেমন সমাজের ক্ষতি হচ্ছে ঠিক তেমনই নানারকম শারীরিক রোগের শিকার হচ্ছেন মহিলারা। এই সমস্যা আটকাতেই এবার তৎপর হয়েছে বঙ্গ বিজেপি সরকার।
