ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। আর তারপরই বাংলায় শান্তিপূর্ণ ও নির্ভেজাল ভোট করাতে একের পর এক সিদ্ধান্তের ঘোষণা করে চলেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। আর এবার গণতন্ত্রের এক ভয়াবহ অভিশাপ তথা ভুয়ো ভোট রুখতে এক অভিনব পন্থা আপনাতে চাইছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে দায়ের হল একটি মামলা। যেখানে ভোটের সময় আঙুলের ছাপ ও চোখের মণির বায়োমেট্রিক ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনস্বার্থের এই মামলায় কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের মতামত কী তাও জানতে চেয়েছে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের বেঞ্চ।
ঘটনার সূত্রপাত সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে বিজেপি নেতা তথা আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায়ের দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের থেকে। তার দাবি, বর্তমানের ভোটার ID কার্ড বা আধার কার্ড দেখিয়ে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থাতেও জালিয়াতি থামানো যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে একজনের নামে অন্যজন ভোট দিচ্ছে। এমনকি একই ব্যক্তি একাধিক বুথে গিয়েও ভোট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ভূরি ভূরি। আর এই সমস্যা মেটাতেই তিনি প্রস্তাব দেন, প্রতিটি বুথে আধার কার্ডের মতো বায়োমেট্রিক মেশিন থাকুক। যেখানে ভোটার আঙুলের ছাপ বা আইরিস স্ক্যান করলে তবেই ভোটযন্ত্র বা EVM সক্রিয় হবে। সুপ্রিম কোর্ট তার এই আবেদনের ওপর ভিত্তি করে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষকে নোটিশ পাঠিয়ে ৪ সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে জবাব দিতে বলেছে বলে জানা গিয়েছে। কারণ আদালত বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখেছে বলেই সূত্রের খবর।
এ প্রসঙ্গে বিচারপতিরা জানিয়েছেন, স্বচ্ছ নির্বাচন বজায় রাখা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। সেই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করেছে যে, চলতি নির্বাচনে বা খুব শীঘ্রই এই ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব নয়। কারণ এই নিয়ম চালু করতে হলে আইনের কিছু পরিবর্তন দরকার এবং এটি বিরাট খরচ সাপেক্ষ। তবে, আগামী লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনগুলিতে এটি শুরু করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে কমিশনকে। এই ঘটনার প্রসঙ্গে মামলাকারী আইনজীবী উপাধ্যায় জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের হাতেই রয়েছে এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা। তাছাড়া, প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতি কাজে লাগানো হলে ভবিষ্যতে ভোট প্রক্রিয়া আরও নির্ভুল, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়ে উঠবে বলেও তিনি মনে করেন বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে, জাতীয় স্তরে এই বায়োমেট্রিক ভিত্তিক ভোট ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা চালু হলে ভোটারকে বুথে ঢুকে তার আঙুলের ছাপ দিতে হবে। এরপর ডেটাবেসের সাথে সেই ছাপ মিলে গেলে তারপরই বিট অফিসার তাকে ভোট দেওয়ার অনুমতি দেবেন। এর ফলে কোনো ‘ভুতুড়ে ভোটার’ ভোট দিতে পারবে না। কারণ একজনের আঙুলের ছাপ বা চোখের মণি অন্য কারো সাথে মেলে না। তবে, এই ব্যবস্থার সুবিধার পাশাপাশি কিছু অসুবিধাও রয়েছে। ভারতের প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে যেখানে ইন্টারনেট সংযোগ বা বিদ্যুৎ নেই, সেখানে এই মেশিন কাজ করবে কিনা তা একটি চিন্তার বিষয়। সেই সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিয়েও অনেক বিতর্ক রয়েছে। আর সবচেয়ে বড়ো বিষয়টি হল, বিশাল জনসংখ্যার এই দেশে কয়েক লক্ষ বুথে মেশিন বসানোর খরচ দেবে কে। যদিও বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা চালু হলে ভারতে ভুয়ো ভোট কালচার চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে বলেই দাবি করছেন অধিকাংশ মানুষ। তবে, এখন দেখার কেন্দ্র এবং কমিশন আদালতে কী রিপোর্ট দেয়। কারণ তারপরই উচ্চ আদালতের নির্দেশ জানা যাবে।