A Big Surprise at a Wedding Ceremony in Siliguri

শিলিগুড়ির বিয়ের আসরে বড় চমক! নবদম্পতির সামনে হঠাৎ হাজির দেশের প্রধানমন্ত্রী

শিলিগুড়ির এক শান্ত সকাল। চা-বাগানে ঘেরা রিসর্ট, চারদিকে বিয়ের আমেজ, সানাইয়ের সুর। বর-কনে ব্যস্ত, অতিথিদের ভিড় সবকিছুই চলছিল একেবারে স্বাভাবিক ছন্দে। কিন্তু হঠাৎই সব বদলে যায়! কড়া নিরাপত্তা বলয় পেরিয়ে, একেবারে আচমকা বিয়ের আসরে ঢুকে পড়লেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। হাতজোড় করে… হাসিমুখে…একেবারে সাধারণ মানুষের মতো। ঘটনাস্থল শিলিগুড়ির উপকণ্ঠের একটি বিলাসবহুল রিসর্ট। সেখানেই বিয়ে হচ্ছিল অক্ষয় জৈন ও শ্রেয়া জৈনের। সোমবার সকালে শিলিগুড়ির বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষের সমর্থনে জনসভায় যাওয়ার আগে এমনই এক চমক দিলেন নরেন্দ্র মোদী।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে গত এক সপ্তাহ ধরে বাংলায় কার্যত ঝড় তুলেছেন মোদী। শনিবার তিনটি সভা ও মাটিগাড়া-নকশালবাড়িতে রোড শো শেষ করে তিনি রাত কাটান শিলিগুড়ির উপকণ্ঠের একটি অভিজাত রিসর্টে। সেই রিসর্টেই রবিবার সকাল থেকে ছিল অক্ষয় জৈন ও শ্রেয়া জৈনের বিয়ের আয়োজন। সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় নিরাপত্তার স্বার্থে এমন অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়, কিন্তু এক্ষেত্রে স্বয়ং মোদীর ইচ্ছাতেই সম্ভবত বাধা আসেনি বিয়ের আয়োজনে। শ’তিনেক আমন্ত্রিতদের ভিড় তখন রিসর্টে। সকাল সকাল শিলিগুড়ির কাওয়াখালি ময়দানে জনসভার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার জন্য তৈরি হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। রিসর্ট থেকে বেরোতেই সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাস আর মোদী-মোদী স্লোগানে আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে।

রাজনৈতিক সভায় জনতা যেভাবে স্লোগান দেয়, এ যেন ছিল তার চেয়েও অনেক বেশি স্বতঃস্ফূর্ত। হাসিমুখে সেই আহবানে সাড়া দেন মোদী। দূর থেকে হাত না নাড়িয়ে সোজা পৌঁছে যান বিয়ের আসরে। উপস্থিত অতিথিরা তখন কার্যত বাকরুদ্ধ। কেউ মোবাইল তুলতে ভুলে গেছেন, কেউ আবার বিস্ময়ে দাঁড়িয়ে চোখের সামনে দেশের প্রধানমন্ত্রী! প্রথমেই খোঁজ নেন বর-কনের। অক্ষয় ও শ্রেয়ার সঙ্গে পরিচয় করে হাসিমুখে প্রশ্ন করেন, “আমার আসার জন্য আপনাদের কোনো অসুবিধা হয়নি তো?” চারদিক থেকে একসঙ্গে উত্তর আসে—না! এরপর নবদম্পতিকে আশীর্বাদ, “খুব আনন্দে থাকুন, আমার শুভেচ্ছা রইল।” এরপর আর সময় নষ্ট না করে জনসভার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। মাত্র কয়েক মিনিট কিন্তু সেই কয়েক মিনিটেই স্মরণীয় হয়ে গেল বিয়ে।

গত ১২ বছরের রেকর্ড বলছে, খুব ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বা রাজনৈতিক সহকর্মী ছাড়া প্রধানমন্ত্রীকে বিয়ের অনুষ্ঠানে খুব একটা দেখা যায় না। বাংলার চা-বলয়ে ভোটের ঝোড়ো প্রচারের মাঝে তাঁর এই সৌজন্যমূলক উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মন জয় করে নিয়েছে। প্রচারের মঞ্চে ওঠার আগে প্রধানমন্ত্রীর এই মেজাজ এখন উত্তরবঙ্গের চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। সমাজমাধ্যমে সেই ভিডিও পোস্ট হতেই লাইক আর শেয়ারের বন্যা বয়ে গিয়েছে। হঠাৎ প্রধানমন্ত্রীর আগমনে এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা অনুষ্ঠান। অতিথিরা যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না তাঁদের চোখের সামনে দাঁড়িয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী। সব মিলিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই সৌজন্য নজির হয়ে রয়ে গেল বাংলায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *