বীরভূম, রাঙামাটির জেলা। কিন্তু প্রথম দফার ভোটে সেই রাঙামাটি-ই জওয়ানদের রক্তে রাঙা করার ষড়যন্ত্র চলছিল। কারণ বিধানসসভা নির্বাচনের শুরুতেই খয়রাশোলে যা ঘটল, তা দেখে গোটা দেশ স্তম্ভিত। যারা দেশকে রক্ষা করেন, সেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের ওপর বৃষ্টির মতো ঝরে পড়ল পাথর! কিন্তু প্রশ্ন হল, সাধারণ গ্রামবাসী নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো গভীর রাজনৈতিক উস্কানি? ঘটনার সূত্রপাত প্রথম দফার ভোট চলাকালীন সময়ে। সে সময় খয়রাশোলের রাস্তায় টহল দিচ্ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। উদ্দেশ্য একটাই—সাধারণ মানুষ যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন। কিন্তু হঠাৎই শুরু হলো হামলা। লাঠিসোঁটা আর পাথর নিয়ে একদল মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়ল উর্দিধারীদের ওপর। আচ্ছা, ভাবুন তো, যারা নিরাপত্তা দিতে এসেছে, তাদের ওপর কেন এত আক্রোশ?
বিজেপি বারবার অভিযোগ করেছে, বীরভূমের কিছু এলাকায় নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় দুষ্কৃতী রাজ চলছে। আর কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকলে সেইসব দুষ্কৃতীদের রুজি-রুটি বন্ধ হয়ে যাবে। তাই পরিকল্পিতভাবে গ্রামবাসী বিশেষ করে মা-বোনেদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বাহিনীর ওপর এই হামলা চালানো হচ্ছে। এটা কেবল পাথর বৃষ্টি নয়, এটা ভারতের সংবিধানের ওপর বড় আঘাত। বীরভূমের রাজনীতিতে একসময় ‘গুড়-বাতাসা’ আর ‘নকুলদানার’ খেলা চলত। আজ সেই জমানার একচ্ছত্র আধিপত্য হয়তো নেই, কিন্তু মানসিকতা কি বদলেছে? তৃণমূলের একাংশ যেভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছে, তার ফলেই কি এই পাথর বৃষ্টি? শাসকদলের নেতারা মঞ্চ থেকে দাঁড়িয়ে বাহিনীকে ‘হয়রানি করার যন্ত্র’ বলে দাগিয়ে দিচ্ছেন। আর তারই ফলস্বরূপ সাধারণ মানুষকে উস্কানি দিয়ে জওয়ানদের ওপর লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বিজেপি সব সময় বলেছে, ‘ভয়মুক্ত বাংলা’। আর এই ভয়মুক্ত বাংলা গড়তে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিকল্প নেই। যারা পাথর ছুড়ছেন, তারা কি জানেন বাহিনীর জওয়ানরা কতটা সংযম দেখাচ্ছেন? তারা চাইলে কড়া ব্যবস্থা নিতে পারতেন, কিন্তু তারা মানুষের ওপর গুলি চালাতে আসেননি। অথচ তাদের এই মহানুভবতাকেই দুর্বলতা ভেবে সুযোগ নিচ্ছে দুষ্কৃতীরা। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে, বীরভূমের মতো স্পর্শকাতর জেলায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা থাকবে। আর বিজেপি এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। কারণ যেখানে ভোট লুট আর ছাপ্পার ইতিহাস আছে, সেখানে বুট পরা জওয়ানদের প্রয়োজন আছে। শাসক শিবির অবশ্য বারবার বলছে, গ্রামবাসীরা জওয়ানদের ভয় পাচ্ছেন। কিন্তু সুরক্ষা দেখে ভয় কিসের? ভয় তো তাদের পাওয়ার কথা যারা রামনবমীর মিছিলে বাধা দেয়, ভয় তো তাদের পাওয়ার কথা যারা কেন্দ্রীয় প্রকল্পে দুর্নীতি করে।
এখানে একটা কথা সত্যি যে, কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকলে এবার আর ‘দাদাগিরি’ চলবে না, আর সেই আশঙ্কার থেকেই এই হামলা। লকেট চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে সুকান্ত মজুমদার, প্রত্যেক বিজেপি নেতাই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন এবং দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। খয়রাশোলের এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, বাংলায় গণতন্ত্র আজও কতটা বিপন্ন। কিন্তু বাংলার সাধারণ মানুষ আর বোকা হবেন না। পাথরের বদলে এবার ব্যালটে জবাব দেওয়ার সময় এসেছে। জওয়ানদের ওপর যারা হাত তুলেছে, তাদের যোগ্য শাস্তি হবেই। আর অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য বিজেপির লড়াই জারি থাকবে। বীরভূমের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে পদ্ম ফুটবে এবং সেইদিন আর বেশি দূরে নয় যেদিন এই দুষ্কৃতী রাজের অবসান ঘটবে বলেও দাবি করেছেন পদ্ম শিবিরের নেতৃত্বরা।